পিরোজপুরের নেছারাবাদে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ২১টি মাদ্রাসা থেকে ৫৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০৯ জন। গড় পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর মধ্যে আটটি মাদ্রাসার পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। আর একটি মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস না করা প্রতিষ্ঠানটি হলো পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিও। মাদ্রাসাটিতে ১৫ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থী রয়েছে দুই শতাধিক। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনও করেছে। এরপরও দাখিল পরীক্ষায় পাঁচ পরীক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ না হওয়ায় অভিভাবক ও মাদ্রাসার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নেছারাবাদের ২১টি মাদ্রাসা থেকে ৫৪৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩০৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছে ২২ জন।
সামগ্রিক ফলাফলের বিপরীতে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল উদ্বেগজনক। পাটিকেলবাড়ী দরগাহ শরীফ মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র দুজন। নেছারাবাদ মোজাদ্দেদিয়া মাদ্রাসা থেকে ১১ জনের মধ্যে পাস করেছে দুজন। গাজীপুর মৈশানী হারুন অর রশিদ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে পাঁচজন।
এ ছাড়া বিন্না নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জনের মধ্যে সাতজন, আউরিয়া হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩৪ জনের মধ্যে নয়জন, মাহমুদকাঠি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৭ জনের মধ্যে ১২ জন, হজরত রাবেয়া বসরি (রহ.) মহিলা দাখিল (আমিরহাজী) মাদ্রাসা থেকে ১৬ জনের মধ্যে পাঁচজন এবং গুয়ারেখা রাব্বানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে সাতজন উত্তীর্ণ হয়েছে।
সবচেয়ে হতাশাজনক ফল হয়েছে পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসায়। পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজনও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ১৫ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী থাকার পরও এমন ফলাফল কেন তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাদ্রাসাটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো নন-এমপিও। এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউই পাস করতে পারেনি। এর সুনির্দিষ্ট কারণ তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না।
তিনি বলেন, মাদ্রাসাটি এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন হয় না। এ কারণে কখনো কখনো শিক্ষকেরা অনুপস্থিত থাকতেন। ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, শুধু এমপিওভুক্ত না হওয়া কিংবা শিক্ষকদের বেতন-ভাতার সংকটই কি একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ? পর্যাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান ও উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় একাডেমিক তদারকি সবকিছুই পর্যালোচনা করা দরকার। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের কেউই পাস না করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ফলাফল খারাপ হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাদের কাছে চিঠির মাধ্যমে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে।