হোম > সারা দেশ > পিরোজপুর

নেছারাবাদে চেতনানাশক স্প্রে ছিটিয়ে দুই শিশুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, অল্পের জন্য রক্ষা

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 

ভুক্তভোগী দুই শিশু। ছবি: আজকের পত্রিকা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে চেতনানাশক স্প্রে ছিটিয়ে এক কন্যাশিশুসহ দুই শিশুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে ১২ বছর বয়সী কন্যাশিশুটির বুদ্ধিমত্তার কারণে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে সে ও তার কোলে থাকা ১৫ মাস বয়সী চাচাতো ভাই।

গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিবার ও শিশুটির বর্ণনা অনুযায়ী, বিন্না গ্রামের মিনি (১২) দুপুরে ভাত খেয়ে তার ১৫ মাস বয়সী চাচাতো ভাই আয়ানকে কোলে নিয়ে বাড়ির সামনের একটি দোকানের কাছে যায়। সেখানে বোরখা পরা এক নারীকে অসুস্থ ব্যক্তির মতো বসে থাকতে দেখে মিনি তার কাছে এগিয়ে যায়। এ সময় ওই নারী সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি স্প্রে বের করে মিনির মুখে ছিটিয়ে দেন বলে শিশুটি জানিয়েছে।

মিনির ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর ওই নারী তাকে সঙ্গে নিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর এক পুরুষের সঙ্গে একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। পরে অটোরিকশায় করে তাকে ও আয়ানকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের মাছ বাজার এলাকায় নেওয়া হয়।

মিনি আরও জানায়, সেখানে যাওয়ার পর তার চেতনা ফিরে আসে। এ সময় ওই পুরুষ তাকে ও শিশুটিকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখান। পরে ওই ব্যক্তি কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় মিনি কোলে থাকা আয়ানকে নিয়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে সে তার খালার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

মিনির মা মরিয়ম বেগম বলেন, বিকেল ৪টার দিকে তাঁর বোন ফোন করে জানান, মিনি তাঁর বাড়িতে এসেছে এবং তাকে কেউ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছে।

বলদিয়া ইউনিয়নের প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ এনামুল হক রতন বলেন, ঘটনাটি জানার পর এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এক নারী শিশুটিকে স্প্রে ছিটিয়ে অচেতন করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে মেয়েটির চেতনা ফিরে এলে সে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে শিশু দুটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত। সত্যিই যদি এ ধরনের কোনো চক্র সক্রিয় থাকে, তাহলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।’

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নেছারাবাদজুড়ে শিশু ধরে নিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটি সত্যিই শিশু পাচারের চেষ্টা ছিল কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিষয়টি ফেসবুকে জানতে পেরেছি। গুরুত্বসহকারে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।’