পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদিত জনবলকাঠামোয় উপাধ্যক্ষ পদ নেই। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ডা. এ এফ এম আতিকুর রহমানকে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে তিনি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এমনকি অধ্যক্ষের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়িও ব্যবহার করেন তিনি।
ডা. এ এফ এম আতিকুর রহমান পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক। কলেজ সূত্র জানিয়েছে, কলেজে সরকারি কাঠামোয় উপাধ্যক্ষ পদ নেই। কিন্তু ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ডা. আতিকুর রহমানকে ‘উপাধ্যক্ষ’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি যাবতীয় সুবিধা ভোগসহ অধ্যক্ষের নামে বরাদ্দ গাড়িও ব্যবহার করছেন সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়াসহ যাবতীয় কাজে।
এদিকে অধ্যক্ষের জন্য প্রতি মাসে ১৮০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ থাকলেও গত কয়েক মাসে উপাধ্যক্ষের জন্য ৮৭৫ লিটার জ্বালানির বিল জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে জমা দেওয়া হয়। পরে অস্বাভাবিক জ্বালানি ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিলটি ফেরত দেয় হিসাব বিভাগ।
এ বিষয়ে জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার মোস্তাক আহমদ বলেন, মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ গাড়ির জ্বালানি বাবদ যে হিসাব দিয়েছেন, তা অস্বাভাবিক হওয়ায় আমাদের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সেটি ফেরত পাঠিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, কলেজের অধ্যক্ষ অধিকাংশ সময়ে অনুপস্থিত থাকেন। নিজের সুবিধার্থে উপাধ্যক্ষ পদটি তৈরি করেছেন আর ডা. আতিক প্রভাব খাটিয়ে এ পদে এসেছেন।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গাড়িটি আমার অনুকূলে বরাদ্দ হলেও বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কাজে উপাধ্যক্ষ এটি ব্যবহার করেন।’
ডা. আতিকুর রহমান সরকারের নিয়োগ দেওয়া উপাধ্যক্ষ নন এবং তাঁর জন্য গাড়ি বরাদ্দ না থাকলেও কীভাবে ব্যবহার করছেন—এমন প্রশ্নে অধ্যক্ষ বলেন, ‘তাঁর প্রভাব আছে, তাই তিনি প্রভাব খাটিয়ে গাড়ি ব্যবহার করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আতিকুর রহমান বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে এ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যক্ষ নিজেই তো কলেজে সব সময় উপস্থিত থাকেন না। প্রতি শনিবার তিনি কলেজে আসেন না। আর আমি নিয়ম মেনেই সরকারি কাজে গাড়ি ব্যবহার করি। সরকারি বরাদ্দের বাইরে প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগতভাবে জ্বালানি কিনেছি। গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষও সব সময় নিয়ম অনুসরণ করেন না।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি এবং প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘ডা. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম করলে কারও ছাড় নেই।’