২০১৭ সালে বাউফল সরকারি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্র নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন সেখানে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার হঠাৎ কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কেন্দ্র ফি ব্যয় মেটাতে অপ্রতুল হওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্র জেলা শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষার মাত্র ১২ দিন আগে হঠাৎ কেন্দ্র পরিবর্তনের নোটিশ পায় বাউফল সরকারি কলেজ। পূর্বে নির্ধারিত কেন্দ্র কালাইয়ার ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজ থেকে সরিয়ে পটুয়াখালী জেলা শহরের আবদুল করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তর করা হয়। এতে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরের ঝুঁকিপূর্ণ সড়কপথে যাতায়াত করতে হবে পরীক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকাল ৯টার পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে ভোরেই রওনা দিতে হবে। আবার বিকেলে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরতে গিয়ে পড়তে হবে রাতের অন্ধকারে। তীব্র গরম ও দীর্ঘ যাত্রার কারণে শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়বে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে বলে তাঁরা জানান।
ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সড়কে মানববন্ধনও করেছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালে বাউফল সরকারি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্র নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন সেখানে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার হঠাৎ কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়।
ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কেন্দ্র ফি দিয়ে পরীক্ষার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় অতিরিক্ত খরচ প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হচ্ছিল, যা দীর্ঘ মেয়াদে সম্ভব নয়। এ কারণে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে।’
বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁদের আগে জানানো হয়নি। আগে আলোচনা হলে বিকল্প সমাধান বের করা যেত এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হতো।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ এনামুল করিম জানান, সংশ্লিষ্ট কলেজের আবেদনের ভিত্তিতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশে কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে যাতায়াতের ঝুঁকির বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।