পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে জয়ী নুরুল হক নুরকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অথবা নৌপরিবহন কিংবা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চান উপকূলীয় এলাকার মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই অঞ্চলের মানুষের দাবি, তাঁদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করতে এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিনিধির হাতে দেওয়া হোক। আর সে ক্ষেত্রে উপকূলের ছেলে নুরকে এসব মন্ত্রণালয়ের জন্য উপযুক্ত মনে করেন তাঁরা।
গলাচিপা, দশমিনা, কলাপাড়া ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় তাঁদের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ত্রাণ বিতরণ, বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসন কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার কারণে তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা জানা এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত একজন জনপ্রতিনিধি মন্ত্রিত্ব পেলে উপকূলীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
দশমিনা উপজেলার চর হাদী এলাকার বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, ‘আমরা তো প্রায়ই ঝড়-বইন্যার লাইগা সব হারাই ফেলি। ত্রাণ ঠিকমতো আইতে চায় না, বাঁধ ভাঙলে মেরামত অইতে দেরি অয়। নুর ভাই আমাগো কষ্টটা বোঝেন। উনি যদি ত্রাণ বা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তাইলে আমাগো এই এলাকার দুঃখ-কষ্ট অনেক কমবো।’
বেতাগী সানকিপুর এলাকার মেহেদী হাসান বলেন, ‘ত্রাণব্যবস্থায় অনেক দিন ধইরা গরমিল আর অনিয়ম চলতাছে। নুর ভাই সাহসী আর মানুষের কথা কওয়া নেতা। উনি যদি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় পায়, তাইলে দুর্যোগে পড়া মানুষের ভোগান্তি অনেকটা কমবো।’
গলাচিপার কলেজশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘নৌপথ ও নদী আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাইলে নুর ভাই নৌযান চলাচল নিরাপদ করবেন, ঘাট উন্নয়ন করবেন আর নদীশাসনে ভালো কাজ করবেন। পায়রা বন্দরকে পুরোপুরিভাবে চালু করবেন; এইটাই আমাদের আশা।’
গলাচিপার চর বিশ্বাস এলাকার জেলে নেতা মো. হানিফ মাঝি বলেন, ‘আমাগো জীবন নদী আর সাগরের ওপর। ঝড়-বইন্যা আইলে সব শেষ অইয়া যায়। নুর ভাই যদি নৌ বা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পান, তাইলে নদীভাঙন আটকানো, নৌপথ নিরাপদ করা আর মোগো জেলেগো নিরাপত্তায় আসল পরিবর্তন আইবো। নইলে সরকার আইবো যাইবো মোগো কিচ্ছু অইব না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, ‘মানুষের এই ভালোবাসা ও প্রত্যাশা আমার জন্য বড় দায়িত্ব। আমি যেখানেই থাকি না কেন, উপকূলীয় মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে কাজ করে যাব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নদীরক্ষা ও নিরাপদ নৌ যোগাযোগ এই তিনটি বিষয় আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’