পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এনজিও কার্যালয়ে ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে ঋণগ্রহীতা ও এনজিও কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেল ৬টায় উপজেলা সদরের `সংগ্রাম' এনজিও কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঋণগ্রহীতার ভাই এছাহাক হাওলাদার এবং এনজিওর মাঠকর্মী মো. রাসেল।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টায় সংগ্রাম এনজিওর গ্রাহক মো. মফিজকে দেড় লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। তিনি সকাল ১১টা থেকে অফিসে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর ২টা পার হলেও ঋণ না পেয়ে তিনি ম্যানেজার মো. কামরুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঋণগ্রহীতা পক্ষের দাবি, মফিজকে অফিসের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে তার ভাই এছাহাক হাওলাদার সেখানে গেলে তাকে ঘিরে হাতাহাতি ও পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এছাহাক হাওলাদার ও ফিল্ড কর্মী মো. রাসেল আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে সংগ্রাম এনজিও কার্যালয়ের ম্যানেজার ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতদের প্রথমে দশমিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা হাসপাতালে পাঠান।
সংগ্রাম এনজিও কার্যালয়ের ম্যানেজার কামরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, `ঋণগ্রহীতা মফিজ সকালেই অফিসে আসেন। আমি দুপুর ১২ টার সময় বলি, জুল ক্লোজিং মাস, একটু সময় লাগবে। একাউন্টিং সাহেব ব্যাংকে টাকা আনতে গিয়েছে, আসতে সময় লাগবে। এই কথা বলায় আমার উপর রেগে যান তিনি। অফিসের বাইরে গিয়ে পরে কয়েকজন অপরিচিত লোক নিয়ে অফিসে এসে আমার ফিল্ড কর্মীকে মারধর করেন। মফিজের ফোন ছুড়ে মারার কারণে ওই কর্মীর মুখ ফেটে গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ৯৯৯-এ ফোন করলে দশমিনা থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে আহত ফিল্ড কর্মী মো. রাসেল হোসেনকে দশমিনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
ঋণগ্রহীতা মফিজ হাওলাদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, “আমি সংগ্রাম এনজিও অফিসের একজন নিয়মিত সদস্য। আজ সকাল ১১ ঘটিকার সময় ফিল্ড অফিসার অফিসে আসতে বলেন। আমি সকাল ১১ থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বসে থাকি। ম্যানেজারকে বিষয়টি বললে আমাকে ধমক দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমার সাথে কথা-কাটাকাটি হলে তার সহকর্মীরা আমাকে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখেন। পরে আমার ভাইকে ফোন দিয়ে বলি আমাকে রক্ষা করতে। তিনি এসে আমাকে রুম থেকে বের করেন। ফিল্ড কর্মী আমার ভাইকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।'
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, “ঘটনার বিষয় শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”