হোম > সারা দেশ > পটুয়াখালী

রাঙ্গাবালীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা সাগরপাড় বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরআন্ডা সাগরপাড় বাজারের দুই প্রান্তে রোববার রাতে দুই পক্ষের লোকজন অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হন।

স্থানীয় লোকজন জানান, এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস খান। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন একই ওয়ার্ড যুবদলের বহিষ্কৃত সভাপতি কামাল সিকদার। তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন।

কামাল সিকদারের অভিযোগ, চরআন্ডার পূর্ব পাশের চরে প্রায় ২০০ একর খাসজমিতে ইদ্রিস খানের নেতৃত্বে আলমাছ খান ও বেল্লাল তালুকদার ধান চাষ করছেন। ওই চরে আগে স্থানীয় বাসিন্দারা গবাদিপশু চরাতেন। ধান চাষ শুরুর পর সেখানে গবাদিপশু চরাতে গেলে বাধা, মারধর ও হুমকি দেওয়া হতো। এর প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

কামাল সিকদার বলেন, রোববার রাতে ইদ্রিস খানের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁদের পক্ষের নজরুল মাঝি, খলিল শিকদার, সবুজ মাঝি ও কালু মল্লিক আহত হয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আরও দুজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে ইদ্রিস খানের দাবি, এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও তুলে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তাঁর ভাষ্য, সপ্তাহখানেক আগে চরআন্ডা পূর্ব আবাসনের বাসিন্দা কাঞ্চন হাওলাদারের বাড়িতে তাঁর নাতনি বেড়াতে আসে। নাতনিকে কামাল সিকদারের ভাই জাহিদ সিকদারের ছেলে সিয়াম সিকদার উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ করেন।

ইদ্রিস খান বলেন, কয়েক দিন আগে নাতনিকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে সিয়ামকে আটক করে মারধর করেন। এরপর তাঁকে অপমান-অপদস্থ করা হয়। এ ঘটনার জেরে রোববার রাতে তাঁদের পক্ষের লোকজন সাগরপাড় বাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ডেকে নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

খাসজমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে ইদ্রিস খান বলেন, ওই জমিগুলো অনেক আগেই বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে।

ইদ্রিস খানের পক্ষের সাখাওয়াত, জুলহাস, মজলু, সাকিবুল, রাকিব, সবুজ খান, অলিল খান ও মাহফুজ আহত হয়েছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আহত ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁদের চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।