তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন এবং জোয়ারের পানি থেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে পটুয়াখালীর বাউফলে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন করেছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ভোলা জেলার ভেলুমিয়া ও পটুয়াখালীর ধূলিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবিও জানান তাঁরা।
আজ শুক্রবার সকালে ধূলিয়া ও দুর্গাপাশা ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে ‘ভোলা-ভেলুমিয়া ও ধূলিয়া সেতু এবং টেকসই বাঁধ আন্দোলন কমিটি’র উদ্যোগে ধূলিয়া লঞ্চঘাটে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জেল হক মফু।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তেঁতুলিয়া নদীতে জোয়ারের পানি বাড়লে নদীতীরবর্তী এলাকার বসতবাড়ি ও ফসলের জমি প্লাবিত হয়। পাশাপাশি নদীভাঙনে প্রতিবছর বসতভিটা ও কৃষিজমি হারাচ্ছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলেও জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, ভেলুমিয়া ও ধূলিয়ার মধ্যে সেতু নির্মাণ হলে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে। ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে সময় কমবে।
তাঁদের মতে, সেতুটি নির্মাণ হলে পায়রা বন্দর, পটুয়াখালী ইপিজেড ও বাকেরগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
বক্তারা বলেন, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ঠেকাতে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি। তাই সেতুর পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম তালুকদার, জামায়াতের উপজেলা আমির রফিকুল ইসলাম ও সম্পাদক মো. খালিদুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মো. তারেকসহ স্থানীয় নেতারা।