হোম > সারা দেশ > পটুয়াখালী

দেনার টাকা এড়াতে অপহরণের নাটক, ৪ বছর পর উদ্ধার হোটেল ব্যবসায়ী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

হোটেল মালিক আবদুল মান্নান প্যাদা। ছবি: সংগৃহীত

দেনার টাকা পরিশোধ এড়াতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর এক হোটেল মালিক আবদুল মান্নান প্যাদার (৭০) বিরুদ্ধে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মাদারীপুরের কালকিনির একটি বেদেপল্লি থেকে তাঁকে উদ্ধার করেছে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে কালকিনি এলাকার ওই বেদেপল্লিতে অভিযান চালিয়ে আবদুল মান্নান প্যাদাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভ গ্রামের প্যাদা বাড়ির জয়নাল আবেদীন প্যাদার ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য, ২০২২ সালে বরগুনার তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রবেশপথে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল চালাতেন আবদুল মান্নান। সেখানে দুটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা খেতেন। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে খাবারের বিল বাবদ তাঁর প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ও ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল।

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে হোটেলের ম্যানেজার মো. নুর আলম সিকদারের পরামর্শে আবদুল মান্নান আত্মগোপনে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন একটি নাটক সাজানো হয়।

প্রথমে আবদুল মান্নানের ছেলে মো. জসিম প্যাদা পটুয়াখালী সদর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ওই বছরের ১৪ আগস্ট পাওনাদারদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩৬৫ ও ১০৯ ধারায় আদালতে মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আবদুল মান্নান পটুয়াখালী, ঢাকা, আখাউড়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন। কখনো মাজারে, কখনো দারোয়ানের কাজ করে এবং বিভিন্ন বেদেপল্লিতে ছদ্মবেশে থেকেছেন তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ বাগেরহাটের একটি মাজারে কাজল নামে এক নারীর সঙ্গে আবদুল মান্নানের পরিচয় হয়। পরে তিনি ওই নারীর বরিশালের বাসায় যান। সেখান থেকে ওই নারীর ভগ্নিপতির মাদারীপুরের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

পুলিশ আরও বলছে, আত্মগোপনে থেকেও আবদুল মান্নান তাঁর ছেলের মাধ্যমে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে করা অপহরণ মামলাটি চালিয়ে যান। ফলে ওই মামলায় আসামিদের হয়রানি করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একপর্যায়ে আবদুল মান্নানের অবস্থান শনাক্ত করে পটুয়াখালী ডিবি। পরে বুধবার দিবাগত রাতে কালকিনির বেদেপল্লিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, দেনার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পাওনাদারদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে তিনি আত্মগোপনে যান। দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।

মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, উদ্ধারের পর আবদুল মান্নানকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। অপহরণ মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যানেজার নুর আলম সিকদারসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।