পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ উপড়ে ফেলে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে বেড়িবাঁধ সংস্কারের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির সহস্রাধিক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালতলী থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ শ্রীমন্ত নদের বেড়িবাঁধে ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় বন বিভাগ গাছ রোপণ করে। বর্তমানে এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট অংশে প্রায় ছয় লাখ টাকার গাছ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, টেন্ডারের মাধ্যমে এসব গাছ বিক্রি করলে উপকারভোগীরা পাবেন ৬৫ শতাংশ, সরকার পাবে ১০ শতাংশ রাজস্ব, পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০ শতাংশ এবং ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫ শতাংশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক্সকাভেটর দিয়ে গাছ উপড়ে ফেলে মাটি কাটার কাজ চলছে। এতে কিছু গাছ ভেঙে নষ্ট হচ্ছে, আবার কিছু মাটির নিচে চাপা পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবো ও ঠিকাদারের যোগসাজশে কাজটি চলছে এবং ভয়ে উপকারভোগীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না। তাঁরা আরও জানান, সরকারি গাছের পাশাপাশি দুই পাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটার সময় গাছের গোড়া উপড়ে ফেলায় সেগুলো ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের উপকারভোগী কমিটির সভাপতি মো. জলিলুর রহমান বলেন, প্রায় ৩০০ ফুট এলাকায় ইতিমধ্যে মাটি কাটা হয়েছে। সামনে আরও বড় গাছ রয়েছে। এভাবে কাজ করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. মিজানুর রহমান সোহাগ মৃধা বলেন, পাউবোর নির্দেশেই কাজ শুরু হয়েছে। তারা বন্ধ রাখতে বললে কাজ বন্ধ রাখা হবে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গাছ অপসারণের বিষয়টি জেলা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে পাউবোর নিযুক্ত ঠিকাদার বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে শতাধিক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সময় চাইলেও পাউবো তা দিচ্ছে না।
পটুয়াখালী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. রাকিব বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামত জরুরি। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গাছ অপসারণের বিষয়ে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল আজকের পত্রিকাকে বলেন, পাউবোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে।