পটুয়াখালীর বাউফলে ঋণ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে সঞ্চয় ও বিমার নামে টাকা নেওয়ার পর ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি কথিত এনজিও অফিস ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কয়েক শ গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গতকাল রোববার ঋণ বিতরণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিষ্ঠানের লোকজন কার্যালয় ছেড়ে চলে যান। পরে গ্রাহকেরা সেখানে গিয়ে কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ভুক্তভোগী অফিসের সামনে জড়ো হন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বাউফল পৌরসভার মুসলিমপাড়া মোড় এলাকায় জালাল আহমেদের বাসা ভাড়া নিয়ে সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু করে কথিত প্রতিষ্ঠানটি। দুই বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় নেওয়া হয়। ঋণের আশায় অনেকে বিমার টাকাও জমা দেন।
চার লাখ টাকা ঋণের আশায় দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা জমা দেওয়া আব্দুল আজিজ বলেন, প্রতিষ্ঠানের একজন মাঠকর্মী তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঞ্চয়ের টাকা জমা দিতে বলেছিলেন। রোববার ঋণ নিতে এসে তিনি দেখেন, কার্যালয়ে কেউ নেই।
আরেক গ্রাহক রাবেয়া বেগম বলেন, এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে এক হাজার টাকা বিমা ও ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হয়। ব্যাটারিচালিত গাড়ি নষ্ট হওয়ায় নতুন গাড়ি কেনার জন্য তিনি ওই ঋণের আশায় টাকা জমা দিয়েছিলেন।
এদিকে অফিসের জন্য বাসা ভাড়া দেওয়া জালাল আহমেদের স্ত্রী সৈয়দা শৈলী বেগম বলেন, শনিবার (১৫ আগস্ট) এক ব্যক্তি মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাড়া ও দুই লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার কথা বলে বাসা ভাড়া নেন। গতকাল রোববার অফিস উদ্বোধনের কথা থাকলেও দুপুর ১২টার আগেই তাঁরা বাসা ছেড়ে চলে যান। তাঁদের কাছ থেকে কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটি মোট কত টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে, তা এখনো নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে কয়েকশ গ্রাহকের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’