হোম > সারা দেশ > পটুয়াখালী

শর্ত ভেঙে উপাধ্যক্ষ চুক্তি ভেঙে ‘স্থায়ী’

মীর মহিবুল্লাহ, পটুয়াখালী

উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়ার পরে অধ্যক্ষ ও স্কুলের শিক্ষকরা অভিনন্দন জানান। ছবি: আজকের পত্রিকা

শর্ত লঙ্ঘন করে একজন এনজিওকর্মীকে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) কাজ করা মোসা. শাহানারা আক্তার নামের এ উপাধ্যক্ষের চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধি ও চাকরি স্থায়ীকরণের চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, শাহানারা আক্তারকে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরে শাহানারাকে এক বছরের চুক্তিতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। পরদিন তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের আগে মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জাইকার অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে’ (ইউজিডিপি) দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় একই প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন শাহানারা আক্তার।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপাধ্যক্ষ পদের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে অন্তত ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। চাকরিপ্রার্থী এক শিক্ষকের অভিযোগ, পদটিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ করে ছয়জন শিক্ষক আবেদন করলেও তাঁদের মধ্যে দুজন ছাড়া কাউকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়নি। কিন্তু শাহানারা আক্তারের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পেয়েছেন।

ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর আলহাজ আব্বাস উদ্দিন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘উপাধ্যক্ষ পদের জন্য যে শর্ত দিয়েছিল, সেগুলো আমার ছিল। ১৯৯৬ সাল থেকে শিক্ষকতা করছি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স, মাস্টার্স করেছি। এ ছাড়া আমার পরিচিত ইসলামী ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল নাসির উদ্দিন স্যারও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আমাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়নি।’

জানা গেছে, জেলা প্রশাসক ও স্কুলটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রের (স্মারক নম্বর-০২) ২ নম্বর শর্তে লেখা ছিল, ‘এই নিয়োগ সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক বিধায় স্থায়ী নিয়োগের কোনো অধিকার সৃষ্টি করবে না’। তবে নিয়োগের ছয় মাস পর গত ২০ জুলাই শাহানারা আক্তার চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন করেন। এরই মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর কলেজের বোর্ড সভায় তাঁর মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম না। যাঁরা নিয়োগ দিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁরা বলতে পারবেন। এ ছাড়া বোর্ড সভায় আমার কাছে তাঁর চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে জানতে চাইলে আমি দুই বছর না হলে স্থায়ী করা যায় না বলে জানিয়েছি।’

উপাধ্যক্ষ মোসা. শাহানারা আক্তার বলেন, ‘আমি এর আগে দীর্ঘদিন ডিসি অফিসে কাজ করেছি এবং বিভিন্ন চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ শিক্ষকতায় ১২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এনটিআরসিএর নিয়োগ রয়েছে।’

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একাধিকবার বিজ্ঞপ্তিতে দিয়ে মাত্র দুজন প্রার্থী পেয়েছি। তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে নেওয়া হয়েছে।’

অভিজ্ঞতা না থাকা প্রার্থীকে নিয়োগের বিষয়ে শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল না বিধায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে, এই বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি, আর চুক্তির মেয়াদও বাড়ানো হয়নি।’

পূর্বপরিচয়ের খাতিরে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এর আগে আমি যে প্রকল্পে ছিলাম, সেখানে পটুয়াখালীর অনেকে চাকরি করতেন। সখ্যর অভিযোগ ভিত্তিহীন।’