হোম > সারা দেশ > পটুয়াখালী

আইফোন কিনতে দেড় বছরের শিশুকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ৮ টার দিকে মারুফ তার মাকে বলেন, নাতিকে সাজিয়ে দিতে। তিনি শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও মারুফ ও শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে তার দাদা, দাদি ও আত্মীয়রা খোঁজ করতে বের হন। পরে শিশুটির পিতা মারুফের সঙ্গে ফোনে কথা হলে মারুফ স্বীকার করেন যে, আইফোন কেনার জন্য তিনি তার শিশুপুত্রকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।

শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি আইফোন কেনেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুটির পিতা মারুফ পলাতক আছেন। শিশুটি উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করছে থানা-পুলিশ।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম আরও বলেন, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে শিশুটির জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন। শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি। খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করেছে বলে মারুফ স্বীকার করেছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই এবং প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

শিশুটিকে কেনার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে জানান, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ছেলেকে দেওয়ার কথা বলে আসছিল। তাঁর শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই—এ কারণে তিনি মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তিনি শিশুটিকে তাঁর শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলেও জানান।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার বিষয় শুনি। শিশুটিকে যে কিনেছে, তাকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।