চিকিৎসায় অবহেলা, প্রশাসনিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার ও পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আলোচিত এ এফ এম আতিকুর রহমানকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব দূর-রে-শাহওয়াজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে সরকারের এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, চিকিৎসক ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এর আগে আতিকুর রহমান পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক ও অঘোষিত ‘উপাধ্যক্ষ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। যদিও কলেজের অনুমোদিত জনবলকাঠামোয় উপাধ্যক্ষ নামে কোনো পদ নেই।
এ বিষয়ে আজকের পত্রিকায় ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ: কলেজে পদ নেই, তবু তিনি ‘‘উপাধ্যক্ষ’’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এর আগে, অধ্যক্ষের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়ি তিনি দীর্ঘদিন ব্যবহার করেছেন এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের অভিযোগও ছিল। এ ছাড়া চিকিৎসাসেবায় অবহেলা, এক ইন্টার্ন নার্সকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার এবং দায়িত্ব পালনকালে ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নতুন নিয়োগের খবরে কলেজের অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, যাঁর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনিরুল ইসলাম সুজন নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘এই ডা. পটুয়াখালীর সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষমতাধর কসাই ডাক্তার হিসেবে পটুয়াখালীবাসীর কাছে বেশ পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের অভিযোগের কারনে তিনি এবার বিচারের মুখোমুখি না হয়ে পদোন্নতি পেলেন। ধন্যবাদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে।’
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি আপনার রিপোর্টটি
দেখেছি, এর আগেই সচিব সাহেব অর্ডারটি করে ফেলেছেন। গতকাল বিষয়টি জানতে পারলে আমি স্থগিত রাখতাম। নুর ভাইয়ের (হাসপাতালের সভাপতি) সঙ্গে একটু আগে কথা হয়েছে, উনি সবকিছু দেখিয়েছেন। আমি এ সপ্তাহে দেশের বাইরে যাচ্ছি, আগামী সপ্তাহে এসে ব্যবস্থা নেব।’