হোম > সারা দেশ > পটুয়াখালী

ফজরের নামাজের সময় সেজদায় ইমামের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

মৃত ইমাম আতাউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

ফজরের সুন্নত নামাজ আদায়ের সময় সেজদায় গিয়ে আর ওঠা হলো না পটুয়াখালীর সদর উপজেলার শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহর। আজ সোমবার ভোরে মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লিরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সোমবার ভোরে ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নেন আতাউল্লাহ। সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় যাওয়ার পর দীর্ঘ সময়েও তিনি না ওঠায় মুসল্লিদের সন্দেহ হয়। পরে কাছে গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আতাউল্লাহ দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মাওলানা আব্দুস সালাম। তিনি বাবার একমাত্র সন্তান। পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন আতাউল্লাহ। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর ধরে শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আতাউল্লাহ। নামাজ পড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক ছিল তাঁর। শান্ত ও নম্র স্বভাবের কারণে মুসল্লিদের কাছেও তিনি ছিলেন প্রিয়।

এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আতাউল্লাহ খুব ভালো ও শান্ত মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। কখনো কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখিনি। নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।’

আতাউল্লাহর মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, ‘আতাউল্লাহ তাঁর বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তাঁর দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের জন্য তিনি ছিলেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট সন্তানদের রেখে এভাবে চলে যাওয়ায় স্বজনেরা খুব কষ্ট পেয়েছেন।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আসরের নামাজের পর নিজ বাড়িতে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।