পঞ্চগড়ে এক নারীর দায়ের করা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের নথিপত্র, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ ও আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। এ সময় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ উভয় পক্ষ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পঞ্চগড় জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানায় ওই নারী বাদী হয়ে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার তিন মাইল এলাকায় তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা এবং অজ্ঞাত ২-৩ জন মিলে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, অভিযোগটি মিথ্যা।
ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কোনো নারাজি আবেদন করা হয়নি। তদন্তে জব্দ করা আলামতের ডিএনএ রিপোর্ট বিশ্লেষণেও আসামিদের ডিএনএ-র মিল পাওয়া যায়নি।
তদন্তে আরও প্রমাণিত হয়, বাদী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ আগস্ট এ মামলার রায় দেওয়া হয়। বিষয়টি আজ জানাজানি হয়।
মিথ্যা মামলা দায়ের করায় সংশ্লিষ্ট নারীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী প্রসিকিউশন বা মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান বলেন, ‘আদালত মামলার সমস্ত নথিপত্র, পুলিশ প্রতিবেদন এবং ডিএনএ রিপোর্ট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করেছেন। পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার বিশ্লেষণ শেষে আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং প্রকৃত অপরাধের বাইরে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতার বিষয়ে একটি সঠিক আইনি বার্তা পৌঁছে গেল।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান রাশেদ এক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তিরা হয়রানি থেকে মুক্তি পেলেন।’