হোম > সারা দেশ > পঞ্চগড়

সীমান্তঘেঁষা স্কুলে পাঠ্যবইয়ের গল্পে শিশুদের অভিনয়, নাটকে নাটকে পাঠ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পাঠ্যবইয়ের গল্প-কবিতাকে নাট্যরূপ দিয়ে নিজেরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

হিমালয়ের পাদদেশে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। এই জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গ্রাম শারিয়ালজোত। শহর থেকে দূরের এই জনপদের শিশুদের নিয়ে চলছে ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘সিলেবাস থিয়েটার’। পাঠ্যবইয়ের গল্প-কবিতাকে নাট্যরূপ দিয়ে নিজেরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেলে শারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভীন। গত সপ্তাহজুড়ে চলা এ আয়োজনে পাঠ্যবইয়ের গল্পকে নতুনভাবে সাজিয়ে নাটক তৈরি করা হয়েছে। আর সেই নাটকের চরিত্রে অভিনয় করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই। পাইলট প্রকল্প হিসেবে তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

পাঠ্যবইয়ের গল্প-কবিতাকে নাট্যরূপ দিয়ে নিজেরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

শুধু নাটক নয়, আয়োজনের অংশ হিসেবে শিশুদের মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, শরীরচর্চা, হাত-পা ও চোখের ব্যায়াম, শুদ্ধ উচ্চারণ, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা এবং বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলার অনুশীলনও করানো হচ্ছে। খেলাধুলা ও বিভিন্ন গেমের মাধ্যমেও শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, প্রান্তিক এলাকার অনেক শিশু শহরের শিক্ষার্থীদের মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না। সেই সুযোগ তৈরি করতেই পাঠ্যক্রমকে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো আনন্দের সঙ্গে শেখার পাশাপাশি শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, কণ্ঠস্বর, উচ্চারণ ও উপস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। টেলিভিশনে থিয়েটার দেখলেও এবার নিজেদের বিদ্যালয়ে নাটক ও অভিনয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত তারা। শিক্ষার্থী জেসিকা বলে, ‘টেলিভিশনে নাটক দেখেছি। কিন্তু এবার নিজেরাই নাটকে অভিনয় করছি। বিষয়টি আমার খুব ভালো লাগছে। অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক কিছু শিখতেও পারছি।’

শুধু শিক্ষার্থী নয়, সন্তানদের অভিনয় দেখতে বিদ্যালয়ে ছুটে এসেছেন অভিভাবকেরাও। প্রত্যন্ত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন আয়োজনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার এমন উদ্যোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে।

গতকাল বিকেলে শারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভীন।

কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার বলেন, প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগ করার সুযোগ কম পায়। অথচ পাঠ্যক্রমেই নানা সাংস্কৃতিক বিষয় রয়েছে। সিলেবাস থিয়েটারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন তা উপভোগ করবে, তেমনি অভিভাবক ও এলাকার সুধীজনও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। এটি জেলা প্রশাসনের একটি অনন্য উদ্যোগ। পাইলট প্রকল্প হিসেবে তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরে ১০টি নাটক নিয়ে একটি নাট্য উৎসব আয়োজন করা হবে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভীন বলেন, থিয়েটার একটি কম্পোজিট আর্ট। এটি শুধু নাটক বা অভিনয় নয়। একজন অভিনেতাকে নানা যোগ্যতায় যোগ্য হয়ে উঠতে হয়। তার খাবার, পোশাক-আশাক, কথা বলা থেকে শুরু করে সবকিছুর মধ্যেই শিল্পচর্চার বিষয় রয়েছে। তাই থিয়েটারের প্রশিক্ষণ সবার জন্যই অনুসরণীয়। পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো এই মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত করে প্রান্তিক শিশুদের পাঠদান করলে তাদের আত্মবিশ্বাস ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের পাশাপাশি সৃজনশীলতাও বাড়বে।