বিস্তৃত সবুজ আমন ধানের খেত। মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে ধানের পাতা। এ দৃশ্যে অনেকের চোখ জুড়ালেও পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কৃষক দুলাল ইসলামের মন ভারাক্রান্ত। কারণ পোকার আক্রমণে তাঁর খেতের অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ তাঁর ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা কখনো খোঁজ নেননি—অভিযোগ দুলালের।
দুলাল বড়শশী ইউনিয়নের মায়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন, বড়শশী ইউনিয়নের চিলাপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, কোনাবালাপাড়া, সর্দারপাড়া, বালাপাড়া, অমরখানা ও সবুজপাড়া এলাকার কৃষকেরাও। বড়শশী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) মো. আসাদুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
কৃষকেরা জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়মিত এলাকায় পাওয়া যায় না। ফলে ফসলের সমস্যা দেখা দিলেও তাঁরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষকেরা বলছেন, ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া নিয়মিত কৃষক গ্রুপের সভা হয় না। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করেন না। এতে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মায়াপাড়া গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিবছর প্রায় ২২ বিঘা জমিতে বেগুন, শাকসবজি ও ধান আবাদ করেন। কিন্তু চাষাবাদে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাননি।
অমরখানা গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, তিনি বহু দিন ধরে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ করছেন। সরকারের কৃষি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার কথা শুনলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসের কাছ থেকে এ নিয়ে কখনো প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাননি।
সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তাঁদের এলাকায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসকে নিয়মিত দেখা যায় না।
কৃষকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়শশী ইউনিয়নে সংশ্লিষ্ট কৃষি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, অনেক কৃষক তাঁকে চিনতে নাও পারেন। তবে যাঁরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাঁদের কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রামের কিছু কৃষক মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন্নবী রাশেদ বলেন, কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত। অভিযোগগুলো যাচাই করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।