পঞ্চগড়ে এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ভারতের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর দিকে, ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর, আটকে রাখা ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাল্টা মামলা করেছেন ওই যুবক। দুই মামলায় তরুণীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গ্রেপ্তার ভারতীয় যুবকের নাম মো. তানভীর আলম (২৪)। তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলার বাসিন্দা। অভিযোগকারী তরুণীর (২০) বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়।
তরুণীর পরিবারের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি ভিডিও চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে তানভীরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ওই তরুণীর ব্যক্তিগত ও নগ্ন ছবি-ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ করেন তানভীর।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ওই তরুণীর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়। এগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ জানালেও তানভীর রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তরুণীর অনুরোধে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে ঢাকা হয়ে পঞ্চগড়ে আসেন তানভীর। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁকে পঞ্চগড় পৌরসভার জালাসীপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা তানভীরের মোবাইল ফোনে থাকা ছবি ও ভিডিও মুছে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, তানভীরের করা পাল্টা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ওই তরুণী তাঁকে বাংলাদেশে আসতে বলেন। পঞ্চগড়ে পৌঁছানোর পর তাঁকে জালাসী এলাকার তরুণীর মামার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট, ডেবিট কার্ডসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তানভীরের অভিযোগ, তাঁর মোবাইল ফোন থেকে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার পর তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বিবস্ত্র করা হয়। এ সময় তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর মা ও বোনের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তানভীরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তানভীর আলম বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় ওই তরুণীসহ মো. লাবু (৩০), মো. সোহাগ (২৫) ও আব্দুল বারী রাশেদ (৩৭) নামের চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ভারতীয় যুবকের করা মামলায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।