নোয়াখালী সদর উপজেলার ১৯ নম্বর পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের চর কাউনিয়া গ্রামের ব্রিকফিল্ড শ্রমিক ওলি উদ্দিন ভূঁইয়া হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের শহীদ উদ্দিন ইস্কান্দার হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা দীর্ঘ ৭ বছরেও হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের বড় ছেলে আজাদ ভূঁইয়া, ছোট ছেলে রিয়াজ উদ্দিন ও পুত্রবধূ জেসমিন আক্তার।
আজাদ ভূঁইয়া বলেন, ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফারুক মোবাইল ফোনে তাঁর বাবা ওলি উদ্দিন ভূঁইয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় ওলি উদ্দিনের স্ত্রী সুরমাকে জানানো হয়, মামলার ৩ নম্বর আসামি মাহমুদ উল্যার সঙ্গে থাকা ঝামেলা মীমাংসা করা হবে। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা ওলি উদ্দিনের আর কোনো খোঁজ পাননি।
আজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন থেকে একাধিকবার ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যান। স্বামীর খোঁজে ফারুকের বাড়িতে গেলে তাঁর মাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আজাদ ভূঁইয়া বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়দের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চরউরিয়া এলাকার একটি বিলের মাঝখানে ওলি উদ্দিনের মতো একজনের মরদেহ পড়ে আছে। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে সোনাপুর সরকারি গোরস্থানে দাফন করে। পরবর্তীতে গোরস্থানে গিয়ে ব্যবহৃত জামাকাপড় ও লুঙ্গি দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন, সেটি ওলি উদ্দিনের মরদেহ।
সংবাদ সম্মেলনে আজাদ আরও বলেন, সে সময় পুলিশ তাঁদের জানিয়েছিল, চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ওলি উদ্দিন নিহত হয়েছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ এবং হাতের রগ কাটা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
আজাদের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে ফারুক, রাশেদ, সুজন ও মাহমুদ উল্লাহ পরিকল্পিতভাবে তাঁর বাবাকে হত্যা করেছেন। আগে থেকে মাহমুদ উল্লাহ ওলি উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনার বিচার দাবিতে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে ফারুক, রাশেদসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন আজাদ ভূঁইয়া। মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। আজাদের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা যথাযথ তদন্ত ছাড়াই প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় বাদীপক্ষের বক্তব্য বিকৃত করে আদালতে মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ওই প্রতিবেদনের ওপর অনাস্থা জানিয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন করা হলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আজাদ ভূঁইয়া আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী আসামিরা প্রতিনিয়ত তাঁদের হুমকি দিচ্ছে এবং মামলা তুলে না নিলে তাঁদের পরিণতিও তাঁর বাবার মতো হবে বলে ভয় দেখাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।