হোম > সারা দেশ > নোয়াখালী

নোয়াখালীতে সিআইডি পরিচয়ে নারীকে অপহরণচেষ্টা, সাবেক স্বামীসহ আটক ৭

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সিআইডি পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টাকারী সাত ব্যক্তিকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে সিআইডি পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে তাঁর সাবেক স্বামীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে সিআইডির চারটি ইউনিফর্ম, তিনটি ওয়াকিটকি ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আটিয়াতলী এলাকার স্বপন চৌধুরীর ছেলে শহীদুল ইসলাম শুভ চৌধুরী (৩২), চররুহিতা এলাকার সেলিমের ছেলে রুবেল হোসেন (২৯), রাজশাহীর মাড়িয়া এলাকার রওশন আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৮), বগুড়ার ওন্দারহাট এলাকার জাহিদুর রহমানের ছেলে আবুল কাশেম সোহেল (৩৮), চট্টগ্রামের উত্তর হাইটকান্দি এলাকার আইনুল কবির চৌধুরীর ছেলে শাহাদাত হক খান চৌধুরী (২৯), ফেনীর পরশুরাম উপজেলার শুভার বাজার এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে নাদির (২৯) ও ঢাকার বংশাল এলাকার ফজলু মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া (৫৫)।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট এবং শাহাদাত হক চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স করপোরাল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে পারিবারিকভাবে ওই নারীর সঙ্গে শুভ চৌধুরীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের দাম্পত্যকলহ শুরু হয়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর থেকে শুভ তাঁর সাবেক স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ।

ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গতকাল বুধবার গভীর রাতে সিআইডির ইউনিফর্ম পরে ও হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে শুভসহ কয়েকজন মাইজদীর বসুন্ধরা কলোনিতে ওই নারীর বাসার সামনে যান। পুলিশ পরিচয়ে দরজায় কড়া নাড়েন তাঁরা। একটি মামলার তদন্তের কথা বলে দরজা খুলতে বলা হয়।

পরে নারীর বাবা আতাউর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে তাঁরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। এ সময় শুভ তাঁর সাবেক স্ত্রীর কক্ষে গিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে আতাউর রহমানের স্বজনেরা বাইরে থেকে মূল ফটক বন্ধ করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সাতজনকে আটক করে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা আতাউর রহমান বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।