নোয়াখালী পৌর এলাকার দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের প্রতিবাদের মুখে সিভিল সার্জন তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি বন্ধের ঘোষণা দেন।
আজ রোববার সকালে ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।
মৃত শিশু মো. মুসলিম উদ্দিন (১২) লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। অপরদিকে ঘটনার অভিযুক্ত ব্যক্তি আবুল হোসেন নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্যারামেডিক।
জান গেছে, গতকাল শনিবার বিকেলে কমলনগরের চরবসু গ্রামে খেলার সময় শিশু মুসলিমের বাম চোখে একটি লাঠির আঘাত লাগে। পরে বাবা-মা তাকে নিয়ে নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে কর্তব্যরত প্যারামেডিক আবুল হোসেন শিশুটির চোখে অ্যানেসথেসিয়া দেন। পরে শিশু মুসলিম বমি করতে শুরু করলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। স্বজনেরা শিশুটিকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিক আবুল হোসেন বলেন, ‘শিশুর চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।’
সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মৃত শিশুর স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশে জানিয়েছেন। শিশুর মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ঘটনাস্থল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর এলাকায় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, মৃত শিশুর স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পরই দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শন করি। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিশুর স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জানা যাবে।