এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে নোয়াখালীতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার প্রায় ২৯ হাজার ৩৫০ জন গ্রাহক ও ৭টি সিএনজি স্টেশন গ্যাস সংকটে পড়েছে। গ্রাহকেরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, জেলাজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৬-১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। গত সপ্তাহে হঠাৎ লাইনে গ্যাস-সংকট দেখা দেয়। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে আজ বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বাখরাবাদের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রায় ২৯ হাজার আবাসিক ও ৩৫০ বাণিজ্যিক গ্রাহক এবং ৭টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন।
শহরের মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, গত সপ্তাহে গ্যাসের সংকট থাকলেও বাসার চুলা হালকা জ্বলত। দিনে-রাতের কোনো একটা সময় কিছুটা গ্যাস পেয়ে রান্নাবান্না করা যাচ্ছিল। কিন্তু আজ দুপুর থেকে চুলাই জ্বলছে না। এতে রান্নাসহ অন্যান্য কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
একই অবস্থা শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁতেও। কয়েকজন হোটেল কর্মচারী জানান, সকাল থেকে রান্নাবান্না এবং বিক্রি ভালোই চলছিল। বেলা বাড়তেই গ্যাস বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের খাবার খাওয়ার সময়ে গ্যাস চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। সেই সঙ্গে গ্রাহকেরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস এনে রান্না করছেন।
বাখরাবাদ নোয়াখালীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ব্যবস্থাপক নূর করিম জানান, দুপুর ১২টা থেকে ফেনী গ্রিড থেকে প্রধান লাইনে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গত সপ্তাহে গ্যাসের সংকট থাকলেও নোয়াখালীর সোন্দলপুর ও বেগমগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসে কিছু কিছু এলাকায় সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ জেলাজুড়ে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।