সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংকটাপন্ন প্রসূতি স্ত্রীর জন্য ‘বি নেগেটিভ’ রক্ত চেয়ে আকুতি জানিয়েছিলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন। সেই মানবিক আহ্বানকে পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পাতে একটি চক্র। রক্ত দেওয়ার কথা বলে গাড়ি ভাড়ার অজুহাতে বিকাশে টাকা নিয়ে পরে মোবাইল বন্ধ করে দেয় তারা।
সময়মতো রক্ত সংগ্রহ করতে না পারায় আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শর্মিন জাহান পপি (২৮) বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে আসামি করে চর জব্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর কাজী মোখলেছ গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শর্মিন জাহান প্রসূতি অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে ‘বি নেগেটিভ’ রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের সন্ধানে তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি জরুরি পোস্ট দেন।
পোস্টটি দেখে ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে ০১৩৩০৩৫২০৬৮ ও ০১৩৫২২২৮৪৫৯ নম্বর থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা জানান, তাঁরা রক্ত দিতে হাসপাতালে যেতে প্রস্তুত আছেন, তবে যাতায়াত ও গাড়ি ভাড়ার জন্য অগ্রিম টাকা প্রয়োজন।
রক্তের আশায় সরল বিশ্বাসে আনোয়ার হোসেন ওই ব্যক্তিদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ১ হাজার ৫৩০ টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পরপরই প্রতারকেরা তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দেয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরদিন ৪ আগস্ট অনেক চেষ্টার পর ভুক্তভোগী যোগাযোগ করতে পারলে প্রতারকরা রক্ত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় তারা ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পুলিশ বা আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। রক্তের জন্য দিকবিদিক ছুটতে হয়েছে। টাকার বিষয়টি বড় নয়, কিন্তু প্রতারণার কারণে আমরা চরম বিপদে পড়ে যাই। সময়মতো রক্ত না পাওয়ায় চিকিৎসায়ও সমস্যা হয়েছে। যারা এমন প্রতারণা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও বিকাশ লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’