হোম > সারা দেশ > নোয়াখালী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা বিক্রি, চেয়ারম্যান বললেন—‘আমার দখলে ছিল’

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: 

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জু। সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় নির্মিত দোকানঘর। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরের প্রায় ৬ শতক জমি দোকানভিটি হিসেবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন সভাপতি আবুল বাশার মঞ্জুর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ১৬ আগস্ট স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর কাছে ওই জমি বিক্রি করা হয়। এর আগে বিদ্যালয়ের জায়গায় থাকা গাছও কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে সিডিএসপির অর্থায়নে মাটি ভরাট করে ওই জায়গায় জোবায়ের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। মাঠের দক্ষিণ পাশের ভিটিগুলো নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিরোধ ছিল। বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর জায়গাটি বিদ্যালয়ের দখলে আসে। পরে জোবায়ের মিয়ার হাট জামে মসজিদ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানে গাছ লাগিয়ে জায়গাটি ব্যবহার করে আসছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র নাথ জানান, বিদ্যালয়ের জায়গায় আগে বড় আটটি গাছ ছিল। চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জু সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরের প্রায় ৬ শতক জমি ইব্রাহিম খলিল ও মোহাম্মদ কাজলের কাছে দোকানভিটি হিসেবে বিক্রি করা হয়। জমি কেনার পর সেখানে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকানে বিড়ি-সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যাহত হবে।

জমি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল জানান, নকশা ও পেরি ফেরি মূলে চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জুর কাছ থেকে তিনি জায়গা কিনেছেন। প্রতি দোকানভিটির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। গত ১৬ আগস্ট টাকা লেনদেনের পর সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় তা ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জু বলেন, ‘দোকানভিটা আমি বিক্রি করেছি। এ জায়গা আমি সিডিএসপির সভাপতি থাকা অবস্থায় আমার দখলে ছিল। আমার দখলের খাস জায়গা আমি বিক্রি করেছি।’

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘স্কুলসহ পুরো বাজারটি খাস জায়গায়। ২০ বছর আগে মেম্বার থাকাকালে এই জায়গা আমি নিয়েছি। দখলীয় জায়গা আমি বিক্রি করেছি।’

পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিক উল্যা বলেন, চেয়ারম্যান ভূমিহীন থাকা অবস্থায় ওই জায়গা নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর দখলের জায়গা বিক্রি করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহে আলম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করার সুযোগ সরকার ছাড়া অন্য কারও নেই। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’