হোম > সারা দেশ > নোয়াখালী

ইতালির রোমে ট্রিপল মার্ডার: নোয়াখালীতে স্ত্রী-কন্যাসহ বাবুলের দাফন

নোয়াখালী প্রতিনিধি

ইতালিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাবুল ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেশে আসার পর স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার মাগরিব নামাজের পর চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। ঘটনার ১ মাস ১৯ দিন পার হলেও প্রধান সন্দেহভাজন প্রবাসী বাংলাদেশি শাহাদাত হোসেনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

নিহত ব্যক্তিরা হলো চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তাঁর স্ত্রী (৩৮) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত বাবুলের ছেলে অয়ন আজ বিকেলে দেশে পৌঁছে জানাজা ও দাফনে অংশ নেয়।

আজ সকাল ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত তিনজনের মরদেহ পৌঁছায়। পরে স্বজনেরা মরদেহগুলো কোম্পানীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হয়। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন উল্লেখ করে গত ২৭ জুন তাঁর ছবি প্রকাশ করে ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, ছবিতে থাকা ব্যক্তি রোমে ট্রিপল মার্ডারের মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শাহাদাত হোসেনের বয়স ও জাতীয় পরিচয় উল্লেখ করে তাঁর বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমে (৩৩৪৬৯০৩২৯৫) জানাতে অনুরোধ করা হয়।

নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস জানান, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন বাবুল। দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় তাঁরা বাকরুদ্ধ। ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনে ইতালীয় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছিল। আজ সেখানেই তাঁকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে।’ তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।