বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত
রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। ঘটনাটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও তাঁরা অবগত নন বলে জানিয়েছেন। এ নিয়ে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্বজনেরা জানান, মেহেদী হাসান মীম নিহতের ঘটনায় রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন নিহতের ভাই মোক্তাদির ইসলাম। মামলায় মূল অভিযুক্ত কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। গাড়িচালক হিসেবে অন্য এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তা ছাড়া গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া মামলার আপস-মীমাংসার বিষয়েও স্বজনেরা কেউ জানেন না।
স্বজনের দাবি, মামলার বাদী মোক্তাদির ইসলাম নিহত মীমের সৎভাই। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা বাড়িতে থাকেন। বাবা ও সৎমায়ের সংসারে কোনো সহযোগিতা করতেন না তিনি। বাক্প্রতিবন্ধী হয়েও পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরেছিলেন নিহত মীম।
মীমের ভগ্নিপতি মুফতি মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে দেখানো ফুটেজের মাধ্যমে তাঁরা বুঝতে পারেন, নিরীহ এক চালককে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মুজিবুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার কাজে মীমের দাফন শেষে মামলার বাদী মোক্তাদির ও আমার শ্বশুর এরশাদুল হক ঢাকায় গেছেন।’
নিহত মীমের চাচা রাকিবুল ইসলাম রকি জানান, মামলার বাদী মোক্তাদির নিহত মীমের সৎভাই। তিনি মীম বা তাঁর বাবা-মাকে ভরণপোষণ দিতেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন মীম।
মীমের চাচাতো ভাই আল-আমিন জানান, অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতেন মীম। বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ইশারায় কথা বলতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নির্মাণশ্রমিকের কাজ করে পরিবারের হাল ধরেছিলেন। অবসরে কাগজের ফুল তৈরি করে গ্রামীণ মেলা ও বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন।
আল-আমিন বলেন, ‘মীম নিহত হওয়ার ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা করলে চলবে না। প্রকৃত দোষীর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার বারিধারা এলাকায় ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মীম। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে যায় সেই ফুটপাতে। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মীম। তিনি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের হাজীপাড়ার এরশাদুল হকের ছেলে।