হোম > সারা দেশ > নীলফামারী

নীলফামারীর সৈয়দপুর: রেলের জলাশয় ভরাট করে ‘প্লট বিক্রি’

• মাছ চাষের জন্য প্রায় ৫০ শতক জমি ইজারা নেওয়া হয়

• ইতিমধ্যে প্লট করে ৯ জনের কাছে বিক্রির অভিযোগ

• প্রতি শতক জমির দাম নেওয়া হচ্ছে ৫-৬ লাখ টাকা

• অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার: দাবি বাসিন্দাদের

রেজা মাহমুদ, সৈয়দপুর (নীলফামারী) 

ভরাট করে বেড়া দেওয়া হয়েছে ইজারা নেওয়া রেলের জলাশয়। সম্প্রতি সৈয়দপুর শহরের উত্তরে গোলাহাট ১নং অবাঙালি ক্যাম্পসংলগ্ন খানকাহ মসজিদের পাশে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় ৫০ শতকের একটি জলাশয় ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে মাটি ফেলে জলাশয়ের অর্ধেকের বেশি অংশ ভরাট করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহমুদ আলী নামের এক ব্যক্তি মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়ে ওই জমি প্লট আকারে বিক্রি করছেন।

বাসিন্দারা জানান, রেলের এই সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। আশপাশের শত শত ঘরবাড়ির পানি বর্ষা মৌসুমে ড্রেনের মাধ্যমে এই পুকুরে জমা হয়। ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এটি সম্পূর্ণ ভরাট হলে ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানি সংকটে বিপর্যয় তৈরি হবে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রতিকার মেলেনি।

রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, জলাশয় ইজারা নিয়ে ভরাট ও বিক্রির সুযোগ নেই। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, রেলওয়ের এই জলাশয় শহরের উত্তরে গোলাহাট ১ নম্বর অবাঙালি ক্যাম্প-সংলগ্ন খানকা মসজিদের সামনে অবস্থিত। রেলওয়ে কোয়ার্টারে বসবাসকারীসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটি। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস এখান থেকে পানি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ জলাশয়টি মাহমুদ আলী ইজারা নিয়ে ভরাটের পর প্লট করে বিক্রি করছেন। প্রতি শতক জমির দাম নিচ্ছেন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। এরই মধ্যে যাঁরা জমি ক্রয় করেছেন, তাঁরা আধা পাকা ও পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন।

এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ইজারার আড়ালে পুরো জলাশয় দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। জলাশয় ভরাটের প্রভাব শিগগির আমরা দেখতে পাব। বৃষ্টির পানি নামতে পারবে না, ঘরে-রাস্তায় পানি উঠবে।’

মাহমুদ আলী প্লট করে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘বৈধভাবে ইজারা নিয়ে নিজের প্রয়োজনে কিছু অংশ ভরাট করছি।’

এ নিয়ে কথা হয় নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মোনতাকিমের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। ইজারাটি বাতিল করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের কানুনগো মহসিন আলী বলেন, ‘ইজারা নিয়ে জলাশয় ভরাট কিংবা আকার-আকৃতি পরিবর্তন করা এবং বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে ইজারা বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে।’

সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ ঢাকা হলো বালু দিয়ে

প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর ঘিরে প্রস্তুতি, বালুচাপা দেওয়া হলো ময়লার ভাগাড়

ভারত থেকে এল ১৮টি রেলকোচের প্রথম চালান

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি

সৈয়দপুরে রেলের ৭০ একর জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: রেলপথমন্ত্রী

সৈয়দপুর রেলকারখানায় কোচ সংস্কারের মান নিয়ে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী

নীলফামারীতে চিকিৎসকের ওপর হামলা: কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা

নীলফামারীতে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক আটক

সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়নের অভিযোগ: ইউএনওর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন

ঢাকায় হত্যার পর লাশ নীলফামারীতে এনে মাটিচাপার অভিযোগ