হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

গরুর চারা খাওয়ার জেরে দ্বন্দ্ব, প্রতিবেশীকে ‘বারবাঁশ’ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গরু গাছের চারা খেয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে তোতা মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবি মিয়া পলাতক রয়েছেন।

নিহত তোতা মিয়া উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের মৃত আসজ জামানের ছেলে। আজ সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাওর থেকে ফেরার সময় তোতা মিয়ার গরু প্রতিবেশী রবি মিয়ার একটি গাছের চারা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রবি মিয়া ধান বহনের জন্য ব্যবহৃত দুই পাশ সুচালো লম্বা বাঁশের লাঠি (বারবাঁশ) দিয়ে তোতা মিয়ার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। পরে মাটিতে পড়ে গেলে বারবাঁশের সুচালো অংশ দিয়ে তাঁর বুকে আঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন তোতা মিয়া।

পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পলাশ মিয়া বলেন, গরু গাছের চারা খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে রবি মিয়া তোতা মিয়ার একটি পেঁপেগাছ কেটে ফেলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পরে রবি মিয়া বারবাঁশ দিয়ে তোতা মিয়ার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন এবং একপর্যায়ে বুকে আঘাত করেন। বুকে সুচালো অংশ বিদ্ধ হওয়ার কারণেই তোতা মিয়ার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকেলে মরদেহ নিহতের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে। দাফনের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রবি মিয়া পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।