হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

ধান সংগ্রহে অনিয়মের সংবাদ: সাংবাদিককে গালাগালের অভিযোগ খাদ্যনিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সদ্য বদলি হওয়া জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বদলি হওয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে দৈনিক আজকের পত্রিকার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি সাইফুল আরিফ জুয়েলের মোবাইল ফোনে কল করে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন মোয়েতাছেমুর রহমান। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সাইফুল আরিফ জুয়েল জানান, দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি সংবাদ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে বদলি হওয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘বিরিশিরি খাদ্যগুদামে বেনামি ও গায়েবি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তেই উঠে এসেছে। অনিয়মের কারণে গুদাম কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রককে বদলি করা হয়েছে। আমি সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এরপরও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। খাদ্য অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

তদন্তে অনিয়ম, গুদাম কর্মকর্তা বরখাস্ত

খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে। তদন্তে একই কৃষকের নামে একাধিকবার ধান কেনা, অস্তিত্বহীন বা ‘গায়েবি’ কৃষকের নামে ধান সংগ্রহ এবং কাগজপত্রে ধান কেনাকাটার তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এসব অনিয়মের পর গত ৩১ আগস্ট বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর পর গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে নেত্রকোনা থেকে বদলি করে ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পরই ওই প্রতিবেদকের সঙ্গে মোয়েতাছেমুর রহমানের এ ফোনালাপের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল।

এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে নেত্রকোনার কয়েকটি উপজেলায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও চাল বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান আলোচনায় ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে একটি চক্র গড়ে তুলে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের চাল অধীনস্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাণিজ্য করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের নজরদারি ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাংবাদিককে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগের বিষয়ে মোয়েতাছেমুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।