হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

৫০০ টাকা দিতে গিয়ে লাশ হলেন প্রবাসীর স্ত্রী, প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার পূর্বধলায় দেলোয়ারা দিলু (৪২) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। হত্যার পর ওই নারীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিহত দেলোয়ারা লালচাপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রী।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের লালচাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম বাবুল মিয়া (২৮)। তিনি ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

আজ সোমবার দুপুরে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ারার কাছে লাকড়ি বিক্রি করেন বাবুল মিয়া। লাকড়ির ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাবুলের বাড়িতে যান দেলোয়ারা। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাবুলের বাড়ির পাশের জঙ্গলে অচেতন অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক সেন্টু মিয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান তালুকদার মোশাররফ বলেন, ‘ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।’

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে কি-না এখনই বলা যাচ্ছে না।’

ওসি আরও বলেন, ‘গলার চেইন ছিনিয়ে নিতে গিয়েও হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে সবকিছুর উত্তর পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’