নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় যুবক জনি খানের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনের উপস্থিতিতে দুই ব্যক্তির মাথা ন্যাড়া করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রাম্য সালিসের সিদ্ধান্তের পর এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের হেলুচিয়া বাজার এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার হেলুচিয়া বাজারের মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে একটি আলোচনা সভা হয়। পরে বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলার সময় একজন মসজিদের ইমামদের নিয়ে ‘হুজুরদের লোভ বেড়ে গেছে’—এমন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি সালিস অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় যুবক জনি খান বলেন, সালিসে অভিযুক্তদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁরা ক্ষমা না চাওয়ায় স্থানীয়রা তাঁদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেন, ‘মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনার সময় একজন ব্যক্তি মন্তব্য করেন, “হুজুরদের লোভ বেড়ে গেছে।” এর জবাবে আমি সহমত জানিয়েছিলাম। পরে ওই কথাকে অন্যভাবে উপস্থাপন করে আমাকে অপমানজনকভাবে মাথা ন্যাড়া করা হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক ও মোহতামিম আলী আহমদ বলেন, ‘গ্রামের এক ব্যক্তি মসজিদ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে সালিস বসে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মাথা ন্যাড়া করা হয়।’
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশ দেখেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।