নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মুগ্ধ তালুকদারকে (১১) বরফভর্তি পানির বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করার ঘটনায় সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগী ছাত্রের মামা মারুফ খান খালিয়াজুরী থানায় এই অভিযোগ দেন। আজ বুধবার খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহত মুগ্ধ তালুকদার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। সে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। মুগ্ধর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় বসবাস করেন। আর মুগ্ধ তার নানার বাড়ি বরান্তর গ্রামে থেকে পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।
লিখিত অভিযোগে মারুফ খান উল্লেখ করেন, কাউসার আহমেদ রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি অত্যন্ত রাগী, উগ্র ও খারাপ প্রকৃতির ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। প্রায়ই তিনি শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে কলমের কালি লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুগ্ধ তালুকদারকে বেধড়ক মারধর করেন ওই শিক্ষক। একপর্যায়ে হাতে থাকা বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করলে শিশুটি অচেতন হয়ে যায়।
পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরা তার মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফিরিয়ে আনেন। এ সময় বিষয়টি বাড়িতে জানালে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে মুগ্ধকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার করেন।
মুগ্ধর খালা মুক্তা খান জানান, বাড়ি ফেরার পর রাতে কয়েক দফা মুগ্ধ জ্ঞান হারায়, বমি করে এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে রাত কাটান। গতকাল সকালে তাকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার সিটি স্ক্যানসহ নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুটি মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন না অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ। তাঁর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিমেল কদর (চলতি দায়িত্ব) বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। এদিকে একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য। আজকে তিনি স্কুলে গিয়েছেন তদন্তের জন্য। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খালিয়াজুরী থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’