নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের আমগড়া এলাকায় আমগড়া ও পুলিয়া পানেশ্বরপাড়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আমগড়া বাজারের তিনটি দোকান ও একটি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমগড়া বাজারের পাশের একটি কবরস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আমগড়া গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার দাবি, কবরস্থানটি সার্বজনীন। আশপাশের আট গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মৃতদের দাফন করে আসছেন। তবে পুলিয়া পানেশ্বরপাড়ার লোকজন কবরস্থানটি এককভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিয়া পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দা মো. কালামের দাবি, কবরস্থানের জমির দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁদের গ্রামের লোকজনের নামে রয়েছে। আমগড়া গ্রামের লোকজন জোরপূর্বক কবরস্থানের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করায় বিরোধের সূত্রপাত।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ আল মামুন জানান, শুক্রবার সকাল থেকে সংঘর্ষে আহত ৫০ জনের বেশি মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসছেন। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে পুলিয়া পানেশ্বরপাড়া, আমগড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে গোরস্থানসংলগ্ন এলাকায় আমগড়া গ্রামের লোকজন কয়েকটি দোকানঘর স্থাপনের উদ্যোগ নিলে পুলিয়া পানেশ্বরপাড়ার লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে আমগড়া বাজারের তিনটি দোকান ও একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।