হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টাকা আদায়, আটক এনসিপি নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারের (২২) বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। গতকাল রাতে পৌরশহরের বলাইগুয়া এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

পরে আজ বুধবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে সাদিয়া আক্তারকে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক সাদিয়া আক্তার সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং এনসিপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। শহরের কুড়পাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া আক্তার কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার করে টাকা নিয়েছেন। গতকাল বিকেলে পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকায় আবারও টাকা নিতে গেলে এলাকাবাসী তাঁকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে মামলার বাদী প্রিয়া আক্তার বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমিসহ পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছে সাদিয়া। গতকাল বিকেলে আরেকজনের কাছ থেকে টাকা নিতে এলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে। সে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমি এর বিচার পেতে মামলা করেছি।’

নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে হয় সে চক্রান্তের শিকার। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে তিনি কোনো সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়া আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া আক্তার কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান ওসি।