নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মুন্নী আক্তার নামের এক গৃহবধূকে (২২) হত্যার অভিযোগ তুলে স্বামীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামে মোহনগঞ্জ-সমাজ সড়কে এ মানববন্ধন করা হয়। এতে এলাকার দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
নিহত মুন্নী আক্তার উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার মেয়ে।
১০ আগস্ট দিবাগত রাতে একই উপজেলার কয়ড়াপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ির বিছানা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপর তাঁর স্বামী সোহাগ মিয়াসহ পরিবারের লোকজন পালিয়েছেন। ১২ আগস্ট মুন্নী আক্তারের বাবা ইদ্রিছ মিয়া বাদী হয়ে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এতে মুন্নীর স্বামী সোহাগ মিয়া, শ্বশুর-শাশুড়িসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তিন বছর আগে কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় মুন্নীর। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে মুন্নীর ওপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন। ১০ আগস্ট রাতে মুন্নীকে হত্যার পর লাশ বিছানায় ফেলে রেখে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলার পরও আসামিরা এলাকায় দিব্যি ঘুরছে, পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করছে না।
ইদ্রিছ মিয়া বলেন, ‘যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন সোহাগ মিয়াসহ তাঁর পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় মামলা করার পরও আসামিরা এলাকায় ঘুরছেন। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসামিরা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় লুটপাটের অভিযোগ করেছেন।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন মুন্নী আক্তারের মা নুরজাহান আক্তার, সোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মনি আক্তার, শিউলি আক্তার, ইউপি সদস্য শাহ আলম, মো. কাউসার মিয়া, নিহতের ভাই মো. আনিছ মিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জুলহাস উদ্দিন, পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মহসিন তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জয়, জুলফিকার আহমেদ, এলাজ মিয়া, আদর আলী, মুখলেছ মিয়া, রুমান কবির, মিঠু মিয়া প্রমুখ।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মুন্নী আক্তারের মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।