নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মনজুর করেন বিচারক মোহসিনা ইসলাম। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট আদালত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ সাগরকে গ্রেপ্তার করে মদন থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এর আগে ২৩ এপ্রিল সাগরসহ দুজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ওই শিশুর মা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ২ অক্টোবর বিকেলে ক্লাস শেষ হওয়ার পর সাগর ওই শিশুকে মাদ্রাসাসংলগ্ন মসজিদ ঝাড়ু দিতে বলেন। ততক্ষণে অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাড়িতে চলে যায়। সাগর ওই শিশুকে তাঁর কক্ষ পরিষ্কার করতে বলেন। শিশুটি কক্ষে ঢুকলে তিনি তাকে ধর্ষণ করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, শিশুটি চিৎকার করলে সাগর তাকে মারধর ও মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর মসজিদের বারান্দাসংলগ্ন একটি কক্ষে ও শ্রেণিকক্ষে ওই শিশুকে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করা হয়।
গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির মা তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে তাকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মদন থানার উপপরিদর্শক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘শিশুর শারীরিক পরীক্ষার পর পরিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলার পর পুলিশের পক্ষ থেকে আবার পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।’