নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের পাশে গোয়ালঘর করে ছয়টি গরু পালনের অভিযোগ উঠেছে ইপিআই টেকনিশিয়ান আশ্রাফুল ইসলাম কয়েসের বিরুদ্ধে। গোবর ও গো-মূত্রের দুর্গন্ধে হাসপাতাল চত্বরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হওয়ার অভিযোগ করেছেন কোয়ার্টারে বসবাসকারী কর্মচারীরা। ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসক, কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা রোগীরাও।
অভিযোগ অনুযায়ী, আশ্রাফুল ইসলাম কয়েস গত ছয় মাস ধরে হাসপাতাল চত্বরের পূর্ব পাশে পুরোনো সরকারি কোয়ার্টারসংলগ্ন এলাকায় ছয়টি গরু পালন করছেন। গরু রাখার জন্য সেখানে টিনের গোয়ালঘর বানানো হয়েছে। পাশাপাশি একটি অংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরের ভেতরেই গরুগুলোকে ঘাস খাওয়ানো হয়।
হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবাসিক কোয়ার্টারের একেবারে পাশে গোয়ালঘর তৈরি করায় নিয়মিত গোবর ও গো-মূত্র জমছে। সেখান থেকে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কোয়ার্টারে বসবাসকারী কর্মচারীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোয়ার্টারে বসবাসকারী এক কর্মচারী বলেন, ‘হাসপাতালের ভেতরে যেভাবে গরু পালন করা হচ্ছে, তা দেখে মনে হয় জায়গাটি যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তি। কারো তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন এভাবে গরু পালন করায় আমরা অতিষ্ঠ।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত থাকা উচিত। এভাবে হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে স্থায়ীভাবে গরু পালন করা ঠিক নয়। গো-মূত্র ও গোবরের দুর্গন্ধে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। মশা, মাছি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মশা, মাছি বাহিত রোগ বাড়ার ঝুঁকি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
গরু পালনের অভিযোগের বিষয়ে ইপিআই টেকনিশিয়ান আশ্রাফুল ইসলাম কয়েস বলেন, হাওরে দ্রুত পানি চলে আসায় গরুগুলো রাখার অন্য কোনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের পাশে চালা করে গরুগুলো রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের ভেতরে ব্যক্তিগতভাবে গরু পালনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দুই-তিন দিনের মধ্যে গরুগুলো বিক্রি করে দেব।”
দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ভেতরে গরু পালন করা হলেও বিষয়টি জানতেন না বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফিন আজিম। ডা. আরিফিন আজিম বলেন, “যেদিকটায় গোয়ালঘর করা হয়েছে, ওই দিকটা হয়তো চোখে পড়ে না। তাই এত দিন খেয়াল করিনি।’ তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি জায়গা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নেত্রকোনার জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, ‘এটা দেখার জন্য সেখানকার কর্মকর্তারা রয়েছেন। অভিযোগ পেলে তাঁরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। তারপরও বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’