নেত্রকোনা জেলা শহরের জয়নগর এলাকায় সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের ভেতর থেকে রেইনট্রি, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাছবোঝাই একটি হ্যান্ডট্রলিসহ এক চালককে আটক করে পুলিশ। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আজ রোববার সন্ধ্যায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
এর আগে গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে বন বিভাগের কার্যালয় এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক ব্যক্তির নাম রুবেল মিয়া (৩০)। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে বন বিভাগের কার্যালয়ের ভেতরে কয়েকজনকে গাছ কাটতে এবং কাটা গাছ হ্যান্ডট্রলিতে তুলতে দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চান। কিন্তু সন্তোষজনক কোনো উত্তর না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে হ্যান্ডট্রলিসহ রুবেল মিয়াকে আটক করে। গাছগুলো সরাতে ছয়টি হ্যান্ডট্রলি ও ভ্যান ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছিল।
পুলিশ জানায়, বন বিভাগের কার্যালয়ের স্পিডবোটচালক ইন্দ্রজিতের নির্দেশে তাঁরা গাছগুলো সরিয়ে নিচ্ছিলেন। ইন্দ্রজিত ও রুবেল মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা। গাছ কাটার কাজে অংশ নেওয়া অন্য ব্যক্তিরাও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘কাঠবোঝাই হ্যান্ডট্রলিসহ একজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দেওয়া হয়নি। এ কারণে আটক ব্যক্তিকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আজ দিনভর সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে ঘুরেও কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অবগত নন বলে জানান। পরে বলেন, ‘ঘটনাটি আংশিক শুনেছি।’
নূরুল করিম বলেন, গাছগুলো কেটে অফিসে রাখার কথা বলা হয়েছিল। এগুলো পরে নিলামে বিক্রি করা হবে। কিন্তু অফিসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাউকে বলা হয়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী বন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।