নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরশহরের একটি পাকা সড়কের ওপর প্রতি সপ্তাহের বুধবার ছাগলের অবৈধ হাট বসছে। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। আর এই অবৈধ হাট থেকেই নিয়মিত টোল আদায় করছে খোদ পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে এ ব্যাপারে কোনো কিছু অবগত না থাকার দাবি করেছেন পৌর প্রশাসক।
জানা গেছে, পৌরশহরের মাইলোড়া খেলার মাঠের পাশে মোহনগঞ্জ-আদর্শনগর পাকা সড়কে গত এক বছর ধরে প্রতি বুধবার এই অস্থায়ী ছাগলের হাট বসছে।
সরেজমিনে আজ বুধবার দুপুরে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ওপর ছাগল কেনাবেচা চলছে। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাটটিতে কেনাবেচা হওয়া প্রতিটি ছাগল থেকে ১০০ টাকা করে টোল আদায় করছেন পৌরসভার কর্মীরা। এ জন্য সরকারি রসিদও দেওয়া হচ্ছে।
ছাগল বিক্রি করতে আসা রিপন মিয়া জানান, প্রতি ছাগলে ১০০ টাকা করে পৌরসভাকে দিতে হয়। বাড়ির কাছে কেনাবেচা করতে পারায় কিছুটা সুবিধা হলেও হাটটি প্রধান সড়কে হওয়ায় পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জনভোগান্তি তৈরি করে রাস্তার ওপর হাট বসানো অনুচিত। অনুমোদনহীন হাট থেকে টাকা তোলাও অবৈধ। পৌরসভার উচিত গরু-ছাগলের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গার ব্যবস্থা করা।’
স্থানীয় বাসিন্দা রনি মিয়া বলেন, ‘পৌরসভার কাজ রাস্তার অবৈধ হাট উচ্ছেদ করা, অথচ তারা টাকা তুলে উল্টো অবৈধ হাটকে বৈধতা দিচ্ছে।’
টোল আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী সাইফুল আমিন বলেন, হাটটির জন্য পৌরসভার অনুমোদন নেই। এই হাটটি স্থানীয়রাই গড়ে তুলেছে। আগে মাঠে কিছু ছাগল উঠত এবং বাইরের লোক খাজনা নিত। ধীরে ধীরে হাটে মানুষ বাড়ছে। এখন পৌরসভার রসিদের মাধ্যমে টাকা তোলা হচ্ছে। আমাদের পৌরসভার একজন স্টাফ এই টাকা তুলছেন। শহরের জন্য ছাগলের হাট দরকারি এবং এতে মানুষের উপকারই হচ্ছে।
পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ‘সড়কের ওপর ছাগলের হাট বসার বিষয়টি আমার জানা নেই। হাটটি অনুমোদিত কি না কিংবা এখান থেকে পৌরসভা টাকা তুলছে কি না, সে বিষয়েও আমি অবগত নই।’ বিষয়টি দ্রুত খোঁজ নিয়ে সড়ক থেকে হাট সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।