হোম > সারা দেশ > নাটোর

নাটোরে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের লালপুরে এক নারীকে (২৪) জোরপূর্বক ধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা করেছেন।

আজ সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের আজের আলীর ছেলে আশিক জামান (২০), হাফিজুল ইসলামের ছেলে কাজল ইসলাম (১৯) ও জোতদৈবকী গ্রামের সাইদুল ইসলাম ভেগা মণ্ডলের ছেলে শাকিল ইসলাম বাদলকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশিকের সঙ্গে দেখা করতে উপজেলার গোপালপুর রেলগেটের দক্ষিণ পাশে সিএনজি স্ট্যান্ডে যান ওই নারী। পরে আশিক ও কাজল তাকে ইজিবাইকে করে গ্রিনভ্যালি পার্কে নিয়ে যান। সেখান থেকে বেলা সোয়া ৩টার দিকে তাকে জোতদৈবকী গ্রামের শাকিলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আশিক ওই নারীকে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শাকিল গোপনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কাজলও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে মেহেদী নামে আরেক ব্যক্তি ওই কক্ষে গিয়ে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন এবং ওই নারীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরদিন আশিক ফোন করে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শাকিলের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে তাদের পরামর্শে থানায় গিয়ে মামলা করেন ওই নারী।

লালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইব্রাহিম খলিল মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে অভিযান চালান। আজ সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে উত্তর লালপুরে আশিকের বাড়ি থেকে আশিক, কাজল ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

লালপুর থানার মামলার নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার কাজল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একটি চুরি, চোরাই মাল গ্রহণ ও ভাঙচুরের মামলা রয়েছে। শাকিল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে একই বছর লালপুর আদালতে করা মারামারি, হত্যাচেষ্টা ও হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা রয়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লালপুর থানায় করা মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আজ সোমবার আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।