হোম > সারা দেশ > নাটোর

সন্তানের সঙ্গে প্রতিবেশী শিশুর দ্বন্দ্ব, বাসায় ডেকে আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধি 

পুলিশ সদস্য সাকিল আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে শিশুদের তুচ্ছ বিরোধের জেরে সাত বছরের এক শিশুর হাতের আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে সাকিল আহমেদ নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। আহত শিশুটিকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নাটোর সদর উপজেলার বড়হরিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিশু বাইজিদ বিন মাহমুদ (৭) নাটোর পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মাহমুদুল হাসান ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। নাটোর শহরের চেয়ারম্যান রোডের ওই বাড়িতে বাইজিদের মা ও সে বসবাস করে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সাকিল আহমেদ নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত এবং একই বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ভাড়া বাড়ির সবার উদ্যোগে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পুলিশ সদস্য সাকিলের পাঁচ বছরের মেয়ের সঙ্গে শিশু বাইজিদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাকিল ও তাঁর স্ত্রী বাইজিদকে জোর করে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষ থেকে বাইজিদের চিৎকার শুনতে পান ওই বাড়ির অন্যরা। এরপর বাইজিদ কক্ষ থেকে বের হলে তার ডান হাতের একটি আঙুল কাটা অবস্থায় দেখা যায়।

প্রতিবেশীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর শিশু সন্তানের সঙ্গে চরম নৃশংসতা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সাকিলের মোবাইল নম্বরে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। বাসাতেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি আরও জানান, ওই কনস্টেবল তাঁর শিশুকন্যাকে শারীরিক নির্যাতনের মৌখিক অভিযোগ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক জানান, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।