হোম > সারা দেশ > নাটোর

মাঠ আছে, খেলার সুযোগ নেই—উন্মুক্ত করার দাবি কিশোর-তরুণদের

 গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

সাবগাড়ী হাটসংলগ্ন একটি বন্ধ বিদ্যালয়ের মাঠে মানববন্ধনে কিশোর, তরুণ ও যুবকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের গুরুদাসপুরে খেলার মাঠ উন্মুক্ত রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কিশোর, তরুণ ও যুবকেরা। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাটসংলগ্ন একটি বন্ধ বিদ্যালয়ের মাঠে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সাজন আনিছুর রহমান।

আয়োজকেরা জানান, সাবগাড়ী বাজারসংলগ্ন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় এক যুগ আগে চালু হলেও সরকারি নিবন্ধন না থাকায় গত চার-পাঁচ বছর ধরে এর শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের মাঠটি রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিশোর-তরুণেরা খেলাধুলা করে আসছে।

কিশোর-তরুণদের পক্ষে আনিছুর রহমান বলেন, বিয়াঘাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই মাঠে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করে আসছিল। তবে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নামে জমিদানকারী ব্যক্তিরা সেখানে খেলাধুলায় বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আত্রাই নদের তীরঘেঁষা বিদ্যালয় মাঠটি মাছের শুঁটকি তৈরির চাতাল নির্মাণের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার কিশোর-তরুণেরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদনান ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন হোসেন জানায়, বিদ্যালয়ের ছুটির পর সহপাঠীদের সঙ্গে এই মাঠে খেলাধুলা করত তারা। কিন্তু গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে সেখানে খেলতে পারছে না।

কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী রানা আহম্মেদ, নাইস ইসলাম ও নাইম হোসেন জানায়, এলাকাটি এমনিতেই পিছিয়ে পড়া ও মাদকপ্রবণ। খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের অভাবে অনেক তরুণ-যুবক বিপথগামী হয়ে পড়েছেন। মাঠের অভাব ও খেলাধুলার সুযোগ না থাকলে নতুন প্রজন্মের কিশোর-তরুণেরাও বিপথে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মাঠটি উন্মুক্ত রাখার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

উপজেলা ক্রীড়া সংগঠক মিজানুর রহমান বলেন, খেলাধুলা শিশু, কিশোর, তরুণ ও যুবকদের মেধা, মননশীলতা এবং মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারও খেলাধুলার প্রসার ও নতুন মাঠ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে খেলার মাঠ কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগ উদ্বেগজনক। শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বার্থে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

তবে মাঠে খেলাধুলায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিত্যক্ত বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ওয়াজকুরুনী। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও মাঠটি উন্মুক্ত রয়েছে। সেখানে অনেক কিশোর-তরুণ খেলাধুলা করে, তাদের বাধা দেওয়া হয় না। তবে বর্ষাকালে মাছের শুঁটকি এবং শুষ্ক মৌসুমে ভুট্টা শুকানোর জন্য মাঠের কিছু অংশ ভাড়া দেওয়া হয়। এ সময় খেলাধুলায় সাময়িক অসুবিধা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিদ্যালয়ের কোনো জায়গা কারও ভাড়া দেওয়ার এখতিয়ার নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।