হোম > সারা দেশ > নাটোর

১৬ বছরেও শেষ হয়নি বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যা মামলার বিচার, ক্ষুব্ধ পরিবার

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবু। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যার ১৬ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছরেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৯ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নাটোর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হাই সরকার মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এর আগে থানা-পুলিশ ও র‍্যাবসহ (বর্তমান এসআরবি) মোট নয়জন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেন।

অভিযোগপত্রে বনপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম জাকির হোসেন, মাঝগাঁও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খোকন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কে এম জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ ৪৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে বাদশা মিয়া নামে এক আসামি মারা যাওয়ায় তাঁর নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়।

মামলার আইনজীবী শরিফুল ইসলাম মুক্তা বলেন, ‘সিআইডির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আমরা নারাজি আবেদন করেছিলাম। নাটোর আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছি। সেখানে এর শুনানি চলছে।’

মামলার বাদী ও নিহত সানাউল্লাহ নূর বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে অসংলগ্নতা থাকায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এ কারণে নারাজি আবেদন করেছি।’

বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ১৬ বছরেও এই হত্যার বিচার শেষ হয়নি। আমরা দ্রুত বিচারকাজ শেষ করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

এদিকে সানাউল্লাহ নূর বাবুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বনপাড়া বাজারের বিভিন্ন মোড় ও দোকানের সামনে কালো পতাকা উত্তোলন, দুপুরে সর্দারপাড়া জামে মসজিদে মিলাদ ও কোরআন খতম এবং বিকেলে পৌর এলাকার হারোয়া বটতলা চত্বরে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। ‘হারোয়া জনসাধারণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন নিহতের স্ত্রী মহুয়া নূর কচি।

যেভাবে নিহত হন বাবু

২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া শহরে বিএনপির একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। ওই কর্মসূচিতে তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তিনি পৌঁছানোর আগেই সানাউল্লাহ নূর বাবু মিছিল নিয়ে বনপাড়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরে আদালতে দাখিল করা মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৫ জন করা হয়।