নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মা-ছেলের পর আজ না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাবাও। সকাল ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইদুল ইসলাম। এর আগে গত শনিবার ছেলে মারুফ ইসলাম এবং সোমবার স্ত্রী বিউটি খাতুন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
গত শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে বন্দর থানার চাপাতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ একই পরিবারের এই তিন সদস্যকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
এদিকে তিনজনের চিকিৎসায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়ে যাওয়ায় লাশ গ্রামের বাড়িতে নিতে আর্থিক সংকটে পড়েন স্বজনরা। এ অবস্থায় তাঁদের পাশে দাঁড়ান নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। তিনি মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে আনার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা দেন।
মাইদুল বড়বাদকয়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব ইসলাম পলানের ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। স্ত্রী বিউটি ছিলেন গৃহিণী। ছেলে মারুফ স্থানীয় চাপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মাইদুলের মেজো ভাই রুহুল আমিন জানান, গত শুক্রবার সকালে সিগারেট ধরাতে মাইদুল গ্যাস লাইটার জ্বালানোর পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরে থাকা তিনজনই দগ্ধ হন। তাঁদের প্রত্যেকের শরীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
রুহুল আমিন বলেন, চিকিৎসার খরচ চালাতে তাঁদের জমানো সব টাকা শেষ হয়ে যায়। এলাকার মানুষ চাঁদা তুলে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করেছেন। লাশ গ্রামের বাড়িতে আনার মতো অর্থও তাঁদের হাতে ছিল না। সে সময় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, পরিবারটির করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসায় কোনো গ্যাসের সংযোগ ছিল না। বিস্ফোরণের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।