নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ‘ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেড’ নামক পোশাক কারখানায় টানা দুই দিন ধরে নারী শ্রমিকদের আকস্মিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ‘ভূতের আছর’ বা ভীতি থেকে এমনটি ঘটছে বলে শ্রমিকদের মধ্যে গুঞ্জন ছড়ালেও কারখানা কর্তৃপক্ষ ও বেপজা কর্মকর্তারা একে মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক বা অন্য কোনো রহস্যজনক কারণ হিসেবে দেখছেন।
আজ রোববার সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়ার পর পুনরায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আজকের দিনের জন্য পুরো কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছ কর্তৃপক্ষ।
কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারখানার নতুন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কর্মরত নারী শ্রমিকেরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা শতাধিক হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাত সাড়ে ৭টার দিকে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। অসুস্থ শ্রমিকদের ইপিজেডের বেপজা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্রমিকেরা জানান, আজ সকালে আবারও কাজে যোগ দেওয়ার পর কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে অন্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানা কর্তৃপক্ষ আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক বলেন, গতকাল শনিবার এক নারী শ্রমিক কারখানায় ‘ভূত’ দেখেছেন বলে দাবি করেন। এরপর তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে একে একে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কারখানার এক পুরুষ শ্রমিক বলেন, আজ সকালে কাজে যোগ দেওয়ার সময়ও একে একে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের বেপজা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আজ প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক কাজে এসেছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা আজকের জন্য কারখানা ছুটি দিয়ে দিই।’
শ্রমিকদের ভূত দেখার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকেরা অনেকে ভূত দেখেছেন বলে বলছেন। তাঁদের এ কথা বলা তো আর বন্ধ করতে পারি না। তবে আমরা সচেতন মানুষ হিসেবে ভূতের বিষয়টি কীভাবে বিশ্বাস করব? অসুস্থতার ঘটনাও কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে হচ্ছে না, কারখানার বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে। মূলত কী কারণে তাঁরা অসুস্থ হচ্ছেন, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’
বিল্লাল হোসেন আরও বলেন, শ্রমিকদের গরমে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য কারখানায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণের (এসি) ব্যবস্থা রয়েছে।
আদমজী ইপিজেডের বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক নাসরিন বলেন, আজও পাঁচ থেকে সাতজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইডি স্যারসহ আমরা কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সকাল থেকেই আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কারখানায় গিয়ে দমবন্ধ হয়ে যাওয়া বা শ্বাসরোধ হওয়ার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি।’
শ্রমিকদের ভূত দেখার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকেরা ভূতের কথা বলছেন। তবে এটা সচেতনভাবে বোঝার বিষয়। আসলে কী কারণে শ্রমিকেরা অসুস্থ হচ্ছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।’