ফতুল্লায় বাসায় বিস্ফোরণ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে এক পরিবারের চারজন দগ্ধের ঘটনায় বাবার মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর মারা গেল ছেলে রাকিব (১৬)। আজ শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মারা যান রাকিবের বাবা আব্দুল কাদির (৫০)। বেলা পৌনে ২টার দিকে প্রাণ যায় রাকিবের।
এই তথ্য নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, রাকিবের শরীরের ৩৬ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে রাকিবের যমজ ভাই সাকিব ১৭ শতাংশ, মেহেদী ১৮ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছে। তাদের শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুজনের অবস্থাও গুরুতর।
এর আগে গত সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেটের পাশে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকার বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন আব্দুল কাদির (৫০) ও তাঁর তিন ছেলে মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও তার যমজ রাকিব (১৬)।
তাঁদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, একতলা ভবনটিতে ভাড়া থাকে আব্দুল কাদিরের পরিবার। তিনি তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। সোমবার সকালে তাঁদের বাসায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ হয়। শব্দে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠে। প্রতিবেশীরা দৌড়ে গিয়ে দেখেন, ওই বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে এবং ঘরের ভেতর থেকে তাঁরা দগ্ধ অবস্থায় একে একে বের হচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
ফারুক জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাসার গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস থেকে অথবা ফ্রিজের কম্প্রেসর থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না।
মৃত রাকিবের চাচাতো বোন জুলিয়া আক্তার জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দশআনি গ্রামে। তাঁর চাচা আব্দুল কাদির অটোরিকশাচালক ছিলেন। আর তাঁর ছেলে মেহেদি হালিম বিক্রেতা, সাকিব একটি কারখানায় কাজ করে এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করত। ঘটনার সময় তিন ছেলে ও বাবা ঘুমিয়েছিলেন। আর তাদের মা রান্নার কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে ছিলেন। তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।