নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে লোডশেডিং নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করায় আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক তরুণকে তুলে নিয়ে মারধর ও বিকাশে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ রোববার দুপুরে আড়াইহাজার বাজারসংলগ্ন একটি ক্লাবঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের কড়ইতলা এলাকার বেনু ফকিরের ছেলে। তিনি সরকারি সফর আলী কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, আড়াইহাজার পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান সানির নেতৃত্বে আরাফাতকে মারধর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করার পর পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আরাফাতের চাচা ও শ্রমিক দলের বিশনন্দী ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি দাইয়ান ফকির জানান, আড়াইহাজার থানার ভেতরে মোটরসাইকেল রেখে জিমে গিয়েছিলেন আরাফাত। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হলে তাঁকে ধরে পাশের নজরুল ইসলাম আজাদ জনকল্যাণ পরিষদ নামের একটি ক্লাবের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সানির নেতৃত্বে তাঁকে মারধর করা হয়। দুই দফায় বিকাশে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়।
নজরুল ইসলাম আজাদ নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক।
দাইয়ান ফকির বলেন, ‘আমার ভাতিজা লোডশেডিং নিয়া ফেসবুকে একটা পোস্ট শেয়ার করছে। এই জন্য তারে ছাত্রলীগ বইলা মারধর করছে। কিন্তু আমি নিজে বিএনপির রাজনীতি করি। আমার বড় ভাই, আরাফাতের বাবাও বিএনপির রাজনীতি করে। এরপরও আমার ভাতিজারে মারধর কইরা কইছে—ও নাকি ছাত্রলীগ করে। বাবুর সাবেক আওয়ামী লীগ এমপির লোক বইলা ভিডিও করছে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রহমান জিকু বলেন, আতাউর রহমান সানি ও আরাফাত দুজনই ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আতাউর রহমান সানি পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। আর আরাফাতকেও আমি চিনি। এখন দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা হইছে শুনছি।’
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, ‘ক্লাবে মারধরের খবর পেয়ে আমাদের একটি দল ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বিকেল ৩টা বা ৪টার দিকের ঘটনা এটি। এরপর তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে কি না, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আতাউর রহমান সানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসেন বলেন, ‘আরাফাত নামের ছেলেটিকে মারধর করার খবর পেয়েছি। অভিযুক্ত সানিকেও আমি চিনি। কেউ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।’