নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জলসিঁড়ির দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সাহরিয়ার শায়ন। প্রতিদিনের মতো স্কুল ছুটি শেষে খেলছিল বন্ধুদের সঙ্গে। বাড়ি ফেরার স্কুলবাসটি পার্কিং থেকে বের হতে দেখেই দৌড়ে ছুটে যায় বাসের কাছে। কিন্তু বাসটি ঘুরতেই পা আটকে চাপায় পড়ে সে বাসের নিচে। পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শায়ন।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় স্কুল গেটের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির এমন মৃত্যুতে পরিবার যেমন হতবিহ্বল, তেমনি পুরো স্কুলেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, নিরাপত্তা প্রহরীরাও আফসোস করছেন এমন মৃত্যু দেখে।
নিহত সাহরিয়ার শায়ন ঢাকার খিলক্ষেতের বটতলা এলাকার বাসিন্দা সাজু আহমেদের ছেলে। সে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণির ‘সি’ শাখার শিক্ষার্থী ছিল।
আজ বুধবার দুপুরে স্কুলের প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সাহরিয়ার শায়নের স্মরণে টানানো হয়েছে সাইনবোর্ড। যেখানে শোক প্রকাশ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে বালু দিয়ে রক্ত মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। কয়েক দফা ধুয়ে পরিষ্কার করলেও দাগ এখনো অস্পষ্টভাবে রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা আক্ষেপ করছেন এমন মর্মান্তিক ঘটনায়। সে সঙ্গে নিজেদের বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জন্মেছে তাঁদের।
অন্তত ছয়জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। বেলা ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা অধ্যক্ষের সঙ্গে মিটিং করেন অভিভাবকেরা। এ সময় তাঁরা ছয়টি দাবি তুলে ধরেন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে। সেখানে অধ্যক্ষ ফেরদৌস হাসান টিটু জানান, পালাক্রমে সব দাবিই মেনে নেওয়া হবে।
উল্লেখিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাস থেকে শিক্ষার্থীদের নামানোর আলাদা পথ তৈরি করা; নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বাসে অভিভাবকদের সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়া; বাইরের যানবাহন ভেতরে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করা; প্রতি বাসে হাজিরা রাখতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের তালিকা ধরে স্টপেজে বাসে ওঠানামা নিশ্চিত করা; ক্লাস শেষে বাস ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় সে সময় শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলতে থাকে, মাইকিংয়ের মাধ্যমে তাদের বাস ছাড়ার বিষয়টি জানানো; ডোপ টেস্ট করে বাসের চালক ও হেলপার নিয়োগ দেওয়া।
মিটিংয়ে অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফেরদৌস হাসান টিটু জানান, আগামী পূজার ছুটির পরেই এসব দাবি পালাক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্কুলের প্রশাসন থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির প্রধান হচ্ছেন স্কুলের অধ্যক্ষ। ইতিমধ্যে ওই শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে তদন্তকাজ চলছে। পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাস কোম্পানি চেঞ্জ করা হবে। শিশুকে চাপা দেওয়া চালক ও হেলপারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্কুলের পক্ষ থেকে ফ্রিজিং গাড়ি, মরদেহ গোসল, জানাজার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করতে রাজি নয় শিশুটির পরিবার।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করার সুযোগ নেই। মামলা করতে হবে সড়ক আইনে। তারা মামলা না করায় আমরা নিজ থেকে কিছু করতে পারছি না।’