হোম > সারা দেশ > নারায়ণগঞ্জ

তিন দিন ধরে সিএনজি স্টেশনেই খাওয়া-ঘুম

সাবিত আল হাসান, নারায়ণগঞ্জ 

ছবি: আজকের পত্রিকা

সিএনজি স্টেশনে টানা দুই রাত কাটিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আজিজুর রহমান। বাড়িতে থাকা স্ত্রী ও চার বছরের শিশুসন্তানের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে সামান্য জমানো টাকা আর দোকানের বাকির ওপর। বাড়তি খরচ এড়াতে নিজে সিএনজি স্টেশনের পাশের টংদোকানে রুটি-কলা দিয়ে দুপুরের খাবার সেরেছেন।

আজিজুরের মতো কমবেশি এমন অবস্থা জেলার শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের। কেউ কেউ নিজে মালিক হলেও অধিকাংশই চালান অন্য মালিকের গাড়ি দৈনিক জমার ভিত্তিতে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত তিন দিন সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না থাকায় বন্ধ হয়ে আছে অটোসহ সিএনজিচালিত বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল।

গতকাল সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের জেলা পরিষদ এলাকায় ম্যাস সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের অপেক্ষায় থাকা অনেক চালক গাড়ির ভেতরে শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ৩৩টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ৩১টিই বন্ধ রয়েছে। সোনারগাঁ অঞ্চলে থাকা দুটি সিএনজি স্টেশনে সামান্য গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায় বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল চালকদের মধ্যে। তবে সেখানেও ছিল লম্বা সারি।

কয়েকটি সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অটো বা অন্য গাড়ির চালকদের কেউ কেউ চায়ের দোকানে আড্ডা জুড়েছেন। সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতেই তাঁরা আক্ষেপ জানান পরিস্থিতি নিয়ে। একজন বলেন, ‘এত দিন গ্যাসের চাপ কম ছিল, তখন কত হা-হুতাশ করেছি। এখন তো গ্যাসই নাই। চাকা ঘোরে না, আমাগো সংসারও চলতাছে না।’

রেন্ট-এ-কারের চালক মোতালেব বলেন, ‘প্রথম দুই দিন তেলে গাড়ি চালাইছি। এখন আর পোষাইতে পারতাছি না। এ জন্য এখানে আইসা বইসা রইছি। যখন বলি, তেলের দামে ভাড়া দিতে হইব, তখন আর কেউ গাড়ি ভাড়া নিতে রাজি হয় না।’

গ্যাসের অভাবে নারায়ণগঞ্জ শহরে ব্যাপকভাবে কমে গেছে যান চলাচল।

গতকাল সকাল ও দুপুরে শহরের রাস্তায় সিএনজি ছিল না বললে চলে। কমে গেছে সিএনজিচালিত গাড়ি, বাস ও পিকআপ। সোনারগাঁ ও বন্দরে কিছু সিএনজি চললেও ভাড়া হাঁকা হচ্ছিল কয়েক গুণ বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বন্দরের নবীগঞ্জ থেকে মদনপুর পর্যন্ত জনপ্রতি ৩০ টাকার ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া থেকে বন্দর পর্যন্ত ৫০ টাকার ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা।

গতকাল বিকেল ৫টায় তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মনজুর আজিজ মোহন বলেন, ‘অনেক আবাসিক লাইনে গ্যাস চলে এসেছে গত রাত থেকে। আশা করছি, দ্রুত সময়ে বাণিজ্যিক লাইনেও গ্যাস চলে আসবে।’